ফরিদপুর প্রতিনিধি
ফরিদপুরে জামায়াত কর্মীদের বাড়িতে হামলা, মারপিট ও ভাংচুরের ঘটনায় আহতদের শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর ও ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে জেলা জামায়াত এর নেতৃবৃন্দ। হামলার ঘটনায় শিশুসহ আহত হয়েছে ৩ জন।
শনিবার ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন জামায়াত কর্মীদের সাথে সাক্ষাৎ শেষে শহরতলীর বাখুন্ডা এলাকায় ক্ষতিগ্রস্থ ঘরবাড়ি ও দোকান পরিদর্শন করেন তারা।
এ সময় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ফরিদপুর-৩ আসনে জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোট মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী প্রফেসর আবদুত তাওয়াব বিএনপি মনোনীত ও ফরিদপুর-৩ আসনে নির্বাচিত সংসদ সদস্য চৌধুরী নায়াব ইউসুফ আহমেদ এর সাথে টেলিফোনে আলাপ করেন। তিনি, আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক ও সামাজিক সম্প্রতি বজায় রাখতে বিএনপি’র নেতা কর্মীদেরকে সকল প্রকার সহিংসতা থেকে বিরত রাখার জন্য তার প্রতি অনুরোধ জানান। ঘটনা অনুসন্ধান করে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন সংসদ সদস্য চৌধুরী নায়াব ইউসুফ আহমেদ।
প্রশাসনকে সঠিক অবস্থানে থেকে এ ঘটনায় দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহন করে সমাজে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার জন্য প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানান প্রফেসর আবদুত তাওয়াব।
পরিদর্শনকালে জেলা জামায়াত এর আমীর মাওলানা মো. বদরউদ্দিন, সেক্রেটারি প্রফেসর আব্দুল ওহাব, কোতোয়ালি থানা আমীর মো. জসীম উদ্দিন, ফরিদপুর পৌর জামায়াত এর সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট রেজাউল করিম শামীম সহ নেতৃবৃন্দরা উপস্থিত ছিলেন।
শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) রাতে তারাবি নামাজ শেষে বাখুন্ডা রেল স্টেশন সংলগ্ন এলাকায় কয়েকটি বাড়িতে স্থানীয় বিএনপির নেতা-কর্মীরা হামলা চালায় বলে অভিযোগ করেন ইউনিয়ন জামায়াত এর সেক্রেটারি আলমগীর হোসেন। গেরদা ইউনিয়নের ৬ নং ওয়ার্ড এর ইউপি সদস্য মিলন মেম্বারের নেতৃত্বে এ হামলা চালানো হয় বলে জানান তিনি।
এ সময় তারা কয়েকটি দোকানসহ সেক্রেটারি আলমগীর হোসেন ও কর্মী সজিব এর বাড়িতে ভাংচুর করে। ভাংচুরের সময় জানালার কাচ ভেঙ্গে সজিব এর ঘুমন্ত সন্তানের উপর পড়লে তার বাম কানে জখম হয়। হামলাকারীরা ধাওয়া করে আলমগীর হোসেন এর ভাই আজিজুলকে বাড়ির পাশের ফসলের ক্ষেত এর মধ্যে ফেলে মারপিট করে। এতে তার মাথায় গুরুতর জখম হয়। হামলাকারীরা লাঠি দিয়ে আলমগীর হোসেন এর মাথায় আঘাত করে। গুরুতর অবস্থায় আজিজুলকে উদ্ধার করে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
হামলার সময় আক্রান্তরা ট্রিপল নাইন এ ফোন করলে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। এ ঘটনায় ফরিদপুর কোতোয়ালি থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে বলে জানিয়েছেন গেরদা ইউনিয়ন জামায়াত এর সেক্রেটারি আলমগীর হোসেন।
এদিকে ইউপি সদস্য রাসেদ খান মিলন বলেন, এ ঘটনার সাথে আমার কোনো সম্পৃক্ততা নাই। গন্ডগোল হচ্ছে এমন খবর পেয়ে জনপ্রতিনিধি হিসেবে আমি সেখানে গিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেয়ার চেষ্টা করেছি। তিনি জানান, ওই স্থানে দোকানে চা খাওয়ার সময় জুয়েল নামের একজনের উপর জামাত কর্মীরা আক্রমণ করলে গন্ডগোলের সূত্রপাত হয়। আহত জুয়েল ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি আছে।
ফরিদপুর কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শহীদুল ইসলাম জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এখন পর্যন্ত কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে আইনী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

