নান্দাইল (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি
নান্দাইল উপজেলার নান্দাইল চৌরাস্তা (বারুইগ্রাম) এলাকায় ময়মনসিংহ-কিশোরগঞ্জ হাইওয়ে সড়কের পাশে সরকারি ইজারা ডাক ছাড়াই পশু বেচাকেনার একটি হাট দীর্ঘদিন ধরে চালু থাকলেও তা উচ্ছেদ করা হয়নি। জেলা প্রশাসন থেকে একাধিকবার ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ করা হলেও নানা অজুহাতে অভিযান কার্যকর হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।
জেলা প্রশাসনের পাঠানো চিঠিতে হাটটিকে অবৈধ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তবুও বিভিন্ন কৌশলে পশু বেচাকেনা অব্যাহত রয়েছে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, উপজেলার চণ্ডীপাশা ইউনিয়নের নান্দাইল চৌরাস্তা (বারুইগ্রাম) বাজার কাগজপত্রে ‘তহ বাজার’ হিসেবে পরিচিত। এ ধরনের বাজারে বিভিন্ন মহালে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য বিক্রি হয় এবং সরকারি ইজারামূল্যও তুলনামূলক কম থাকে। বাজারটির অবস্থান দুটি আঞ্চলিক সড়ক ও একটি মহাসড়কের সংযোগস্থলে হওয়ায় এটি দ্রুত জমজমাট হয়ে ওঠে। বাজারের অধিকাংশ জমি সড়ক ও জনপথ বিভাগের মালিকানাধীন।
নান্দাইল ভূমি কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, বারুইগ্রাম বাজারটি সরকারের পেরিফেরিভুক্ত নয়। স্থানীয়দের অভিযোগ, পূর্ববর্তী সরকারের আমলে স্থানীয় প্রভাবশালীরা ইজারা ডাক ছাড়াই কোরবানির পশুর হাট চালু করেন, যা এখনো বহাল রয়েছে। পশুর স্থান সংকুলান না হওয়ায় সরকারি প্রকল্পের অর্থে সওজের নিচু জমি ভরাট করে বাজারের পরিধি বাড়ানো হয় এবং সেখানে নিয়মিত পশু বেচাকেনা শুরু হয়। তবে এ হাটের কোনো সরকারি অনুমোদন বা পৃথক ইজারা ছিল না।
নান্দাইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফাতেমা জান্নাত বলেন, হাট-বাজার ইজারা ডাকের সময় পশু বেচাকেনার বিষয়টি আলাদাভাবে উল্লেখ করা হয় না। তবে অন্য একটি সূত্র জানায়, ১৪৩২ বঙ্গাব্দে বারুইগ্রাম বাজারকে ‘তহ বাজার’ হিসেবেই ইজারা দেওয়া হয় এবং ইজারা সংক্রান্ত কাগজপত্রে পশুর হাটের কোনো উল্লেখ ছিল না—যদিও তখন সেখানে পশু বেচাকেনা চলমান ছিল।
বর্তমানে প্রতি বৃহস্পতিবার সেখানে পশুর হাট বসে। কিন্তু এ হাট থেকে সরকার অতিরিক্ত কোনো রাজস্ব পাচ্ছে না বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। সম্প্রতি অভিযোগ ওঠায় হাটটি নান্দাইল-তাড়াইল সড়কের পাশে ব্যক্তি মালিকানাধীন জমিতে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। তবে নিয়ম অনুযায়ী সরকারি ইজারা ছাড়া কোনো হাট পরিচালনা করা যায় না।
সংশ্লিষ্টদের মতে, অবৈধ হাট চালু থাকলে চোরাই গরু বেচাকেনার ঝুঁকিও থেকে যায়। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন ও ক্ষোভ বাড়ছে।

