জয়পুরহাট প্রতিনিধি
জয়পুরহাটের পাঁচবিবি উপজেলাে অবস্থিত মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর ও সংরক্ষণশালার নামফলক থেকে ‘মুক্তিযুদ্ধ’ শব্দটি মুছে ফেলার ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। অনেকেই এটিকে ইতিহাস বিকৃতির শামিল বলে অভিহিত করছেন।
২০২২ সালের ১৮ এপ্রিল পাঁচবিবি পৌরসভা ভবনের তৃতীয় তলায় জাদুঘরটি উদ্বোধন করা হয়। উদ্বোধন করেন তৎকালীন শিক্ষা সচিব নজরুল ইসলাম খান। বীর মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা, যুদ্ধকালীন ব্যবহৃত সামগ্রী, গ্রামীণ ঐতিহ্যবাহী নিদর্শন ও দুর্লভ বইয়ের সংগ্রহ নিয়ে যাত্রা শুরু করা এ জাদুঘর অল্প সময়েই শিক্ষার্থী ও গবেষকদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে পরিচিতি পায়।
তবে সম্প্রতি সরেজমিনে দেখা গেছে, জাদুঘরের মূল ফলক থেকে কৌশলে ‘মুক্তিযুদ্ধ’ শব্দটি মুছে দিয়ে সেখানে শুধু “পাঁচবিবি জাদুঘর সংরক্ষণশালা” লেখা রয়েছে। শুধু নাম পরিবর্তনই নয়, অভ্যন্তরেও অবহেলার চিত্র স্পষ্ট। প্রদর্শিত স্মারকগুলোর ওপর ধুলোর স্তর জমেছে, এমনকি একটি কক্ষে পৌরসভার ডাস্টবিন স্তূপ করে রাখা হয়েছে। এতে স্থানীয়দের মধ্যে চরম অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।
আয়মারাসুলপুর ইউনিয়নের আগইর গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা তোফাজ্জাল হোসেনসহ স্থানীয়রা মনে করেন, স্বাধীনতার চেতনার পরিপন্থী এমন কাজের পেছনে দায়ীদের চিহ্নিত করে শাস্তির আওতায় আনা উচিত। মালিদহ গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল মালেক মণ্ডলের ছেলে মনিরুজ্জামান মনির বলেন, এটি মুক্তিযুদ্ধের গৌরবময় ইতিহাসকে খাটো করার অপচেষ্টা।
পাঁচবিবি উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার আব্দুর রউফ বুলু ঘটনাটিকে ন্যক্কারজনক আখ্যা দিয়ে বলেন, কার নির্দেশে নামফলক পরিবর্তন করা হয়েছে তা তদন্ত করে বের করা জরুরি। জয়পুরহাট জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার জহুরুল আলম তরফদার রুকুও এ ঘটনাকে নিন্দনীয় বলে মন্তব্য করেন।
ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে পাঁচবিবি পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী ও ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী কর্মকর্তা জোবাইদুল হক জানান, নামফলক থেকে ‘মুক্তিযুদ্ধ’ শব্দটি মুছে ফেলা এবং জাদুঘরে ডাস্টবিন রাখা অনুচিত হয়েছে। দ্রুত নামফলক পূর্বের অবস্থায় ফিরিয়ে আনার আশ্বাস দেন তিনি।
এ বিষয়ে পাঁচবিবি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সেলিম হোসেন বলেন, জাদুঘরটি দীর্ঘদিন সঠিক ব্যবস্থাপনায় ছিল না। সংস্কার করে নতুনভাবে ও সুষ্ঠু পরিবেশে পুনরায় চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

