বাবুগঞ্জ (বরিশাল) প্রতিনিধি
বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলা-র দেহেরগতি ইউনিয়নের মধ্যাকুদিয়া গ্রামে সরকারি আবুল কালাম ডিগ্রি কলেজ সংলগ্ন এলাকায় গভীর রাতে ফসলি জমির মাটি কেটে ইটভাটায় বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক ক্ষোভ ও উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, মধ্যাকুদিয়া গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা বাবুল হাওলাদারের ফসলি জমি থেকে স্থানীয় প্রভাবশালী একটি মহলের ছত্রছায়ায় গভীরভাবে মাটি কেটে আশপাশের ইটভাটায় বিক্রি করা হচ্ছে। এ ঘটনায় দেহেরগতি ইউনিয়ন বিএনপির সহ-সভাপতি মো. সারোয়ার হাওলাদারের নাম উল্লেখ করে অভিযোগ করেন এলাকাবাসী।
গত ২৩ ফেব্রুয়ারি গভীর রাতে বেকু মেশিন দিয়ে জমির মাটি কেটে ট্রাকযোগে নিয়ে যাওয়ার সময় বিষয়টি টের পান স্থানীয়রা। পরে সবুর হাওলাদার ও রাতুল হাওলাদার জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করলে বাবুগঞ্জ থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মাটি কাটা বন্ধ করে দেয়।
ক্ষতিগ্রস্ত সেলিম হাওলাদার, খোকন হাওলাদার, ফরিদ হাওলাদার ও মিন্টু হাওলাদার জানান, তাঁদের বসতবাড়ি সন্ধ্যা নদী থেকে মাত্র ৫০ গজ দূরে অবস্থিত। এ অবস্থায় পাশের জমি গভীর করে কেটে নেওয়ায় নদীভাঙনের ঝুঁকি বেড়ে গেছে, যা তাঁদের বসতভিটা ও জানমালের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।
স্থানীয়রা আরও জানান, নদীভাঙনের আশঙ্কায় সরকারি আবুল কালাম ডিগ্রি কলেজসহ আশপাশের কোটি টাকার স্থাপনাও ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। কলেজ রক্ষায় পূর্বে সরকার ভাঙন প্রতিরোধ প্রকল্প বাস্তবায়ন করলেও নতুন করে মাটি কাটার কারণে পরিস্থিতি আবারও সংকটজনক হয়ে উঠতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।
অভিযোগকারী রাতুল হাওলাদার ও সবুর হাওলাদার বলেন, সংশ্লিষ্টদের একাধিকবার অনুরোধ করা হলেও তারা কোনো কর্ণপাত করেননি। প্রভাব খাটিয়ে এ কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার অভিযোগও তোলেন তারা।
এ বিষয়ে বাবুগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার আসমা উল হুসনা জানান, অভিযোগটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অভিযুক্ত বাবুল হাওলাদার বলেন, এ বিষয়ে পরে কথা বলবেন। অন্যদিকে সারোয়ার হাওলাদার দাবি করেন, ঘটনাস্থলে তার কোনো জমি নেই এবং তিনি বিষয়টি সম্পর্কে কিছু জানেন না।
এলাকাবাসী দ্রুত সরেজমিন তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

