শফিকুল ইসলাম সাফা, চিতলমারী
চিতলমারীতে শীতের বিদায় আর বসন্তের বার্তা নিয়ে গ্রামবাংলার আকাশে-বাতাসে ছড়িয়ে পড়ছে আমের মুকুলের মিষ্টি সুবাস। উপজেলার প্রতিটি বাড়ির আমগাছের ডালে ডালে হলুদ-সবুজ মুকুল যেন প্রকৃতির এক অনুপম অলংকার। ভোরের শিশিরভেজা আলোয় কিংবা বিকেলের নরম রোদে আমগাছজুড়ে এখন অন্যরকম এক আবেগ, যা মুগ্ধ করছে গ্রাম থেকে গ্রামান্তরের সব বয়সী মানুষকে।
ফাল্গুন-চৈত্র এলেই দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে আমগাছে মুকুল আসা শুরু করে। উপজেলার প্রতিটি গ্রামের আমগাছে এখন মুকুলের সমারোহ। গাছের ডালপালা জুড়ে ছোট ছোট থোকায় থোকায় ফুটে থাকা মুকুল যেন আগামীর মধুমাসের প্রতিশ্রুতি।
গ্রামের অনেকেই জানিয়েছেন, এ বছর আবহাওয়া ভালো থাকায় আমের মুকুল ভালো এসেছে। অতিরিক্ত শীত বা কুয়াশা না থাকায় মুকুলের ক্ষতি কম হচ্ছে। তবে ঝড় বা শিলাবৃষ্টি নিয়ে কিছুটা শঙ্কা রয়েছে।
আমের মুকুল মানেই মৌমাছির ব্যস্ততা। মুকুলে মধু থাকায় মৌমাছি ও অন্যান্য পরাগায়নকারী পোকা গাছে ভিড় জমায়। তাদের গুঞ্জনে মুখর হয়ে ওঠে গ্রাম থেকে গ্রামান্তর।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. সিফাত-আল-মারুফ জানান, প্রাকৃতিক এই পরাগায়ন ফলন বৃদ্ধিতে বড় ভূমিকা রাখে। ফলে মুকুলের সময়টি কৃষকদের জন্য আশীর্বাদস্বরূপ। তিনি আরও জানান, আমের মুকুল বাঙালির সংস্কৃতিরও একটি অংশ। বসন্তের কবিতা, গান ও চিত্রকলায় আম্রকুঞ্জ ও মুকুলের উপস্থিতি লক্ষ করা যায়। অনেকের শৈশব স্মৃতিতে রয়েছে মুকুলের গন্ধে ভরা বিকেল কিংবা ঝরে পড়া ছোট আম কুড়িয়ে খাওয়ার আনন্দ।
সব মিলিয়ে আমের মুকুলে ভরে ওঠা প্রকৃতি যেন এক আশার বার্তা। প্রকৃতির এই সৌন্দর্য যেমন মনকে ছুঁয়ে যায়, তেমনি কৃষকের হৃদয়ে জাগায় সমৃদ্ধির স্বপ্ন। বসন্তের এই সুবাসময় দিনগুলোতে আমগাছ যেন নতুন করে জানিয়ে দেয়—বাংলার প্রাণ, বাংলার আশা এখনো মাটির সঙ্গেই জড়িয়ে আছে।

