দৌলতপুর (কুষ্টিয়া) প্রতিনিধি
বাউল সাধক ফকির লালন সাঁই-এর কুষ্টিয়ার ছেঁউড়িয়ার আখড়াবাড়িতে দোল উৎসব উপলক্ষে একদিনের লালন স্মরণোৎসব অনুষ্ঠিত হয়েছে। পবিত্র রমজান মাসের কারণে এবছর আয়োজন সীমিত আকারে এবং মূলত আলোচনা সভার মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখা হয়।
সোমবার সন্ধ্যায় অধিবাস পর্বের মধ্য দিয়ে সাধুসঙ্গ শুরু হয়। আখড়াবাড়িতে আগত সাধু, বাউল ও লালনভক্তরা নিজস্ব আধ্যাত্মিক রীতিতে সাধুসঙ্গ করেন। সাধুদের মতে, দোল পূর্ণিমা বা ভাব পূর্ণিমায় অন্তরে ভাবের উদয় হয় বলেই তারা সাঁইজির কৃপা লাভের আশায় ছুটে আসেন আখড়াবাড়িতে। সাধুসঙ্গে অংশ নিলে আত্মা পরিশুদ্ধ হয়—এমনটাই জানান প্রবীণ সাধু ফকির শামসুল শাহ ও ফকির আরোজ শাহ।
দোল উৎসব উপলক্ষে লালন একাডেমি-র আয়োজনে ও কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় বিকেলে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। জেলা প্রশাসক মো. ইকবাল হোসেনের সভাপতিত্বে লালন একাডেমি মিলনায়তনে আয়োজিত সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন কবি ও চিন্তক ফরহাদ মজহার। প্রধান আলোচক ছিলেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়-এর বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. রাশিদুজ্জামান। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জসীম উদ্দিন ও কুমারখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারজানা আখতার।
আলোচনা সভায় বক্তারা লালনের গান, বাউল দর্শন, অসাম্প্রদায়িক চেতনা ও মানবতাবাদ নিয়ে আলোকপাত করেন।
জানা যায়, জীবদ্দশায় দোলপূর্ণিমায় কালিগঙ্গা নদীর তীরে শিষ্যদের নিয়ে সাধুসঙ্গ করতেন লালন সাঁই। তাঁর দেহত্যাগের পরও সেই ঐতিহ্য ধরে রেখেছেন ভক্তরা।
মঙ্গলবার সকালে বাল্যসেবা এবং দুপুরে পূর্ণ সেবার মধ্য দিয়ে এবারের সাধুসঙ্গ শেষ হবে। সীমিত আয়োজনের কারণে এবার সাধু ও ভক্তদের উপস্থিতিও তুলনামূলক কম ছিল।

