Nabadhara
ঢাকাবুধবার , ৪ মার্চ ২০২৬
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. ইতিহাস
  5. কৃষি
  6. খুলনা বিভাগ
  7. খেলাধুলা
  8. চট্টগ্রাম বিভাগ
  9. জাতীয়
  10. জামালপুর
  11. জেলার সংবাদ
  12. ঝিনাইদহ
  13. ঢাকা বিভাগ
  14. তথ্যপ্রযুক্তি
  15. দিনাজপুর
আজকের সর্বশেষ সবখবর

মোল্লাহাটে মানহীন ও অবৈধ সার–কীটনাশকের ছড়াছড়ি, হুমকিতে মাটির স্বাস্থ্য ও খাদ্য নিরাপত্তা

মোল্লাহাট (বাগেরহাট) প্রতিনিধি
মার্চ ৪, ২০২৬ ৪:১০ অপরাহ্ণ
Link Copied!

মোল্লাহাট (বাগেরহাট) প্রতিনিধি

কৃষি প্রধান বাংলাদেশে খাদ্য নিরাপত্তা ও টেকসই উৎপাদনের মূল ভিত্তি সুস্থ ও উর্বর মাটি। অথচ বাগেরহাটের মোল্লাহাট উপজেলায় বৈধ–অবৈধ অসংখ্য দোকানে সরকারের অনুমোদনবিহীন, ভেজাল ও নিষিদ্ধ কোম্পানির সার ও কীটনাশক অবাধে বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। এতে একদিকে কৃষক আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন, অন্যদিকে দীর্ঘমেয়াদে মাটির উর্বরতা ও খাদ্য উৎপাদন মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়ছে বলে আশঙ্কা সংশ্লিষ্টদের।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, চুনখোলা ইউনিয়নের আঙরা গ্রামের সুকলা বিশ্বাস তার বাড়ির সামনে পরিচালিত মুদি দোকানের পেছনের কক্ষে সার ও কীটনাশক বিক্রি করছেন। সাংবাদিক পরিচয় জানালে তিনি ফোনে শিহাব মুন্সী নামের এক ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলেন। ফোনে ওই ব্যক্তি নিজেকে ব্যবসার মালিক দাবি করে জানান, যথাযথ নিয়মেই সার ও কীটনাশক বিক্রি করা হচ্ছে।

পরে সুকলা বিশ্বাস বলেন, তার স্বামী শিহাব মুন্সীর দোকানের ম্যানেজার। তিনি শুধু কৃষকদের প্রয়োজন অনুযায়ী সার ও কীটনাশক পরিমাপ করে দেন; দামের বিষয়টি জানেন না এবং কোনো অর্থ গ্রহণ করেন না। কৃষকরা টাকা তার স্বামী বা মালিকের কাছে পরিশোধ করেন।

একপর্যায়ে উপস্থিত হয়ে শিহাব মুন্সী বলেন, “কীটনাশকের লাইসেন্স থাকলে সার বিক্রি করা যায়।” তিনি দাবি করেন, দোকানের ম্যানেজারের অনুপস্থিতিতে সুকলাকে প্রশিক্ষণ দিয়ে বিক্রির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তবে সুকলার বক্তব্য ও মালিকের দাবির মধ্যে অসঙ্গতি লক্ষ্য করা গেছে।

চুনখোলা বাজারের খুচরা ডিলার শরীফ এবাদুল হকের দোকানে মেয়াদোত্তীর্ণ কীটনাশক দেখা গেলে তিনি জানান, সেগুলো কোম্পানিতে ফেরত পাঠানো হবে। একই বাজারে অপর এক খুচরা ডিলারের দোকানে বিপুল পরিমাণ ভুয়া কোম্পানির সার মজুত থাকতে দেখা যায়।

এ ছাড়া পাশের মেসার্স জাফর বীজ ভান্ডারে ম্যানেজার পরিচয়ে মোস্তাফিজুরকে লাইসেন্স ছাড়াই বীজের সঙ্গে সার বিক্রি করতে দেখা যায়।

কোদালিয়া ইউনিয়নের চাউলটুরী বাজারে সুবাস মৃধা নামে এক ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে লাইসেন্স ছাড়াই সার ও কীটনাশক বিক্রি করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তিনি দাবি করেন, তার কীটনাশকের লাইসেন্স আছে। তবে প্রদর্শিত লাইসেন্সটি ছিল মেয়াদোত্তীর্ণ এবং অন্য নামের। এ সময় তার পক্ষে দোকানঘরের মালিক সাংবাদিকদের অনৈতিক সমঝোতার প্রস্তাব দেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

চুনখোলা ইউনিয়নের প্রধান সার ডিলার আরিফুল মুন্সী সাংবাদিকদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে বলেন, “চুরি বন্ধ হলে কৃষকরা ক্ষতিগ্রস্ত হবে।” তার ভাষ্য অনুযায়ী, লাইসেন্সবিহীন বিক্রেতারা কৃষকের দোরগোড়ায় পণ্য পৌঁছে দেন। তিনি সংবাদ প্রকাশ না করার অনুরোধ জানিয়ে “ভাই-ব্রাদার হিসেবে সুযোগ দেওয়ার” আহ্বান জানান। প্রস্তাবে রাজি না হলে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা করা হবে বলেও তিনি হুমকি দেন। তার বক্তব্যে বিষয়টির গভীরতা ও প্রভাব নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

এ বিষয়ে খুলনা মৃত্তিকা সম্পদ উন্নয়ন ইনস্টিটিউটের বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মাহবুবুল আলম আসাদ বলেন, ভেজাল ও নিম্নমানের সার ব্যবহারে মাটির ওপর বহুমাত্রিক ক্ষতিকর প্রভাব পড়ে। তিনি বলেন, “ভেজাল সারে প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদান না থাকায় কাঙ্ক্ষিত ফলন পাওয়া যায় না। ফলে কৃষক আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন। পাশাপাশি এসব সারে ভারী ধাতু যেমন লেড, ক্যাডমিয়াম ইত্যাদি থাকলে তা মাটির ভৌত গঠন, রাসায়নিক বৈশিষ্ট্য ও অনুজীবের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ব্যাহত করে।”

তিনি আরও সতর্ক করে বলেন, মাটিতে জমা হওয়া এসব ভারী ধাতু খাদ্য শৃঙ্খলের মাধ্যমে মানবদেহে প্রবেশ করে ক্যান্সার, কিডনি ও হৃদরোগের মতো জটিল রোগের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। তার মতে, মাটি পরীক্ষার ভিত্তিতে সুষম ও নির্ভেজাল সার প্রয়োগই নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতের একমাত্র পথ।

স্থানীয় কৃষকদের দাবি, প্রশাসনের নিয়মিত তদারকি ও ভ্রাম্যমাণ আদালতের কার্যক্রম জোরদার না হলে অবৈধ সার ও কীটনাশকের এই দৌরাত্ম্য বন্ধ হবে না। কৃষি সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এখনই কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে ভবিষ্যতে এর ভয়াবহ প্রভাব পড়তে পারে কৃষি উৎপাদন ও জনস্বাস্থ্যে।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।