নিজস্ব প্রতিবেদক, গাজীপুর
গাজীপুর মহানগরের ধীরাশ্রম এলাকায় সড়কের পাশে পড়ে থাকা অবস্থায় সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) গাজীপুর জেলা শাখার সহসভাপতি কামরুজ্জামান মোল্লা (৬৫)-এর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
নিহত কামরুজ্জামান মোল্লা গাজীপুর মহানগরের ৫০ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা এবং পেশায় একজন ঠিকাদার ছিলেন। তিনি দীর্ঘদিন ধরে নাগরিক সংগঠন সুজনের গাজীপুর জেলা শাখার সহসভাপতির দায়িত্ব পালন করছিলেন।
পরিবার ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বুধবার সকাল সাতটার দিকে কামরুজ্জামান মোল্লা নিজ বাসা থেকে গাজীপুর আদালতে একটি মামলাসংক্রান্ত কাজে যান। কিন্তু নির্ধারিত বিচারক উপস্থিত না থাকায় আদালতের কার্যক্রম স্থগিত হয়ে যায়। পরে তিনি আইনজীবীর চেম্বার থেকে বের হওয়ার পর আর বাসায় ফেরেননি। রাত গভীর হলেও তার কোনো খোঁজ না পেয়ে পরিবারের সদস্যরা উদ্বিগ্ন হয়ে বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন।
এদিকে রাতের দিকে নগরের পূর্ব ধীরাশ্রম এলাকায় সড়কের পাশে এক ব্যক্তির মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দেন। খবর পেয়ে গাজীপুর সদর মেট্রো থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহটি উদ্ধার করে। উদ্ধারকালে মরদেহটির গলায় রশি পেঁচানো এবং হাত-পা বাঁধা অবস্থায় পাওয়া যায়। পরে পরিবারের সদস্যরা গিয়ে মরদেহটি কামরুজ্জামান মোল্লার বলে শনাক্ত করেন।
গাজীপুর সদর মেট্রো থানার ওসি মো. আমিনুল ইসলাম জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে বুধবার রাত ১১টার আগের কোনো এক সময়ে তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে। দুর্বৃত্তরা হত্যার পর মরদেহটি ধীরাশ্রম এলাকার সড়কের পাশে ফেলে রেখে যায়। মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দিন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
সুজন গাজীপুর জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক ইফতেখার শিশির বলেন, কামরুজ্জামান মোল্লা সংগঠনের একজন দায়িত্বশীল ও সক্রিয় নেতা ছিলেন। কী কারণে তাকে হত্যা করা হয়েছে, তা এখনো স্পষ্ট নয়।
নিহতের ছোট ভাই কবিরুল ইসলাম বলেন, পারিবারিকভাবে কারও সঙ্গে তার প্রকাশ্য কোনো বিরোধ ছিল না। তবে ব্যবসায়িক লেনদেনের কোনো বিষয় থেকে শত্রুতা তৈরি হয়ে থাকতে পারে বলে তারা ধারণা করছেন।
এ ঘটনায় নিহতের ছেলে কৌশিক জামান বাদী হয়ে হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। পুলিশ ঘটনার রহস্য উদঘাটনে তদন্ত অব্যাহত রেখেছে।

