আবিদ হাসান,হরিরামপুর(মানিকগঞ্জ)প্রতিনিধি
মানিকগঞ্জের হরিরামপুরে উপজেলার আন্ধারমানিক বাজারে অগ্নিকাণ্ডে অন্তত ১৯টি দোকানের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এর মধ্যে ১১টি দোকান সম্পূর্ণ পুড়ে ছাই হয়ে গেছে এবং আরও ৮টি দোকান আংশিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। মারাত্বকভাবে আহত হয়েছে মিন্টু দত্ত নামের ডিজেল অকটেন পেট্রোল ব্যবসায়ী।
মিন্টু দত্তের শরীরের একাংশ পুড়ে যায়। চিকিৎসার জন্য জাতীয় বান ইউনিটে তাকে নেয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। প্রত্যক্ষদর্শী ও ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের সাথে কথা বলে জানা গেছে- বিল্টু দত্তের ডিজেল অকটেন ও পেট্রোল দোকানে থাকা প্রায় ২০ লক্ষ টাকার মত ক্ষতি হয়েছে। মিন্টু দত্তের দোকানে মজুদ থাকা প্রায় ১০ লক্ষ টাকার ডিজেল অকটেন পেট্রোল আর সরঞ্জামাদি পুড়ে গেছে। পাশে ইমদাদুল বিশ্বাসের দোকানে থাকা গ্যাস ভর্তি সিলিন্ডার, চাউল,সহ প্রায় ৩০ লক্ষ টাকার ক্ষতি সাধন হয়েছে। নুর ইসলামের মুদি দোকানে প্রায় ২০ লক্ষ টাকার মুদি মনোহারি পণ্য, মধুসূদন দত্তের প্রায় ২৫ লক্ষ টাকার মুদি পণ্য, সুজনের হোটেলে ৫০ হাজার আর নগদ ৫০ হাজার মোট একলক্ষ টাকা, লালনের ফলের দোকানের ৫০ হাজার টাকা, সুভাষ কুন্ডুর চাউলের দোকানে থাকা লক্ষ টাকার চাউল, দুর্গা মন্দির,বিদ্যুতের মিটার তার, ডিস লাইনের ট্রান্সমিশন তারসহ প্রায় ৫০ হাজার টাকা, গোপালের ফলের দোকানে থাকা প্রায় ৫০ হাজার টাকার মতো বিভিন্ন রকমের ফল, বিষ্ণুর দোকানের প্রায় বিশ হাজার টাকার মত মুদি মনোহারি, মজরউদ্দিনের দোকানের মুদি মনোহারির প্রায় ১০ হাজার টাকা আর অস্থায়ী কাঁচামালের দোকানের প্রায় ১ লক্ষ টাকার মত পুড়ে ক্ষতি হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে হিসাব পাওয়া গেছে।
বৃহস্পতিবার সকাল সোয়া ১০টার দিকে বাজারের একটি দোকান থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়।
স্থানীয়রা আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করলেও দ্রুত তা আশপাশের দোকানে ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে প্রায় পৌনে ১১টার দিকে ফায়ার সার্ভিসের চারটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নেভানোর কাজ শুরু করে। প্রায় দেড় ঘণ্টার চেষ্টার পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।
তবে কীভাবে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে তা এখনো নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, বাজারের একটি হোটেলের পাশে পেট্রোল ও অকটেনের দোকান থেকে আগুনের উৎপত্তি হয়ে থাকতে পারে। আগুন লাগার পর আগুনের লেলিহান শিখা পেট্রোল অকটেন ডিজেলের ড্রামে ছড়িয়ে পড়ে। পাশে গ্যাসের দোকানে আগুন ছড়িয়ে পড়লে তা ভয়াবহ বিস্ফোরণ ঘটে মুহূর্তেই আগুনের লেলিহান শিখা চারিদিকে ছড়িয়ে পড়ে। সব মিলিয়ে প্রায় কোটি টাকার উপরে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। এরই মধ্যে পরিদর্শন করেছেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার নাহিদা আক্তার, উপজেলা সহকারী কমিশনার ভূমি ফাইজা বিসরাত হোসেন, হরিরামপুর থানা অফিসার ইনচার্জ মোঃ আফজাল হোসেন, হরিরামপুর উপজেলা বিএনপি নেতৃবৃন্দ সহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।
ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের সহযোগিতায় স্থানীয় প্রশাসন রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ সহ সকলের কাছে সহযোগিতার জন্য আকুল আবেদন জানান ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী ও স্থানীয়রা।

