ফরিদপুর প্রতিনিধি
ফরিদপুরে যৌতুকের দাবিতে স্ত্রী রেখা বেগমকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যার দায়ে স্বামী মো. জাকির মোল্লা (৪৬) কে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড এবং অনাদায়ে আরও এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) বিকেলে ফরিদপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ) শামীমা পারভীন জনাকীর্ণ আদালতে এ রায় ঘোষণা করেন।
মামলার বিবরণী থেকে জানা যায়, ২০০৯ সালে ফরিদপুর সদর উপজেলার মঙ্গলকোট এলাকার জাকির মোল্লার সঙ্গে সালথা উপজেলার ভাবুকদিয়া গ্রামের রেখা বেগমের বিয়ে হয়। তাদের সংসারে একটি কন্যাসন্তান রয়েছে। বিয়ের কয়েক বছর পর থেকেই জাকির মোল্লা স্ত্রীর কাছে ৫ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করতে থাকেন।
পরিবারের পক্ষ থেকে সংসার টিকিয়ে রাখতে জমি বিক্রি করে সেই টাকা দেওয়া হলেও কিছুদিন পর আবারও টাকা দাবি করে রেখা বেগমের ওপর শারীরিক নির্যাতন শুরু করেন তিনি। এরই ধারাবাহিকতায় ২০১৫ সালের ২২ অক্টোবর রাতে যৌতুক নিয়ে বিরোধের জেরে রেখা বেগমকে নির্মমভাবে পিটিয়ে ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করা হয়।
এ ঘটনায় হত্যাকাণ্ডের চার দিন পর ২৬ অক্টোবর নিহতের চাচা মো. বাচ্চু খান ফরিদপুর কোতোয়ালি থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। দীর্ঘ তদন্ত শেষে ২০১৬ সালের ৩০ নভেম্বর পুলিশ জাকির মোল্লাকে একমাত্র আসামি করে আদালতে চার্জশিট দাখিল করে।
দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া ও সাক্ষ্যপ্রমাণ শেষে আদালত আজ এ রায় ঘোষণা করেন।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী গোলাম রব্বানী ভূঁইয়া রতন বলেন, যৌতুকের মতো সামাজিক ব্যাধির কারণে একটি প্রাণ ঝরে গেছে। আদালতের এই রায় সমাজে যৌতুকবিরোধী একটি কঠোর বার্তা পৌঁছে দেবে।
রায় ঘোষণার সময় আসামি জাকির মোল্লা আদালতে উপস্থিত ছিলেন। পরে তাকে পুলিশ পাহারায় জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

