Nabadhara
ঢাকারবিবার , ৮ মার্চ ২০২৬
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. ইতিহাস
  5. কৃষি
  6. খুলনা বিভাগ
  7. খেলাধুলা
  8. চট্টগ্রাম বিভাগ
  9. জাতীয়
  10. জামালপুর
  11. জেলার সংবাদ
  12. ঝিনাইদহ
  13. ঢাকা বিভাগ
  14. তথ্যপ্রযুক্তি
  15. দিনাজপুর
আজকের সর্বশেষ সবখবর

শুধু চিকিৎসকের অভাবে নির্মাণের ৮ বছর পরও সেবা থেকে বঞ্চিত মানুষ

Link Copied!

সাকিব হাসান, গলাচিপা (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি

পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলার দক্ষিণ পানপট্টি এলাকায় প্রায় ৬ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত ১০ শয্যার মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রটি ( ১০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতাল) নির্মাণের আট বছর পার হলেও এখনো চালু হয়নি চিকিৎসাসেবা। ভবন, আসবাবপত্র ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জাম প্রস্তুত থাকলেও নেই চিকিৎসক, সেবিকা ও প্রয়োজনীয় জনবল। ফলে কার্যত অচল অবস্থায় পড়ে আছে হাসপাতালটি।

স্থানীয়দের প্রশ্ন—যদি চিকিৎসকই নিয়োগ দেওয়া না হয়, তবে এত অর্থ ব্যয় করে হাসপাতাল নির্মাণের প্রয়োজন কী ছিল?

জানা গেছে, ২০১৬ সালে প্রায় ৫ কোটি ৯৬ লাখ টাকা ব্যয়ে দক্ষিণ পানপট্টি এলাকায় ১০ শয্যার মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রের নির্মাণকাজ শুরু হয় এবং ২০১৮ সালের মার্চ মাসে এর নির্মাণ শেষ হয়।

হাসপাতালটিতে রোগীদের জন্য শয্যা, প্রয়োজনীয় আসবাবপত্র, চিকিৎসা সরঞ্জাম এবং চিকিৎসকদের জন্য আবাসিক ভবনও নির্মাণ করা হয়েছে। কিন্তু নির্মাণ শেষ হওয়ার দীর্ঘ সময় পার হলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এখনো প্রয়োজনীয় সংখ্যক চিকিৎসক, সেবিকা, টেকনিশিয়ানসহ অন্যান্য জনবল নিয়োগ দেয়নি। বর্তমানে একজন উন্নয়ন কর্মী রয়েছে । এতে করে স্থানীয়রা কাঙ্ক্ষিত চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

স্থানীয় সমাজসেবক ও মুক্তিযোদ্ধারা জানান, মা ও শিশুদের চিকিৎসাসেবা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে সরকার এই কেন্দ্রটি নির্মাণ করেছে। কিন্তু চিকিৎসক ও জনবল না থাকায় সরকারের সেই উদ্যোগ কার্যত ভেস্তে যেতে বসেছে।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, প্রসূতি মা ও শিশুদের চিকিৎসার জন্য এখনো গলাচিপা উপজেলা সদর কিংবা পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যেতে হয়। দূরবর্তী চরাঞ্চল থেকে সেখানে পৌঁছানো দরিদ্র মানুষের জন্য অত্যন্ত কষ্টসাধ্য ও ব্যয়বহুল। অনেক সময় জরুরি পরিস্থিতিতে প্রসূতি মায়েরা মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়ছেন।

হাসপাতালে কর্মরত উন্নয়ন খাতের কর্মী কাজল রেখা জানান, “বর্তমানে এখানে আমি একাই দায়িত্ব পালন করছি। আগে একজন টেকনিশিয়ান ছিলেন, কিন্তু কিছুদিন আগে তিনিও চলে গেছেন।”

অফিস সূত্রে জানা গেছে, সরকারি বিধি অনুযায়ী এ ধরনের হাসপাতালে একজন মেডিকেল অফিসার, টেকনিশিয়ান, সেবিকা ও প্রয়োজনীয় কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগ থাকার কথা। এসব নিয়োগের দায়িত্ব স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের। তবে দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও এখনো কোনো জনবল নিয়োগ দেওয়া হয়নি।

এ বিষয়ে পানপট্টি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাসুদ রানা বলেন, আট বছর আগে হাসপাতালের ভবনসহ সব অবকাঠামো নির্মাণ শেষ হয়েছে। কিন্তু চিকিৎসক, চিকিৎসা সরঞ্জাম ও প্রয়োজনীয় জনবল না থাকায় মানুষ চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। সরকার জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে হাসপাতালটি নির্মাণ করলেও বাস্তবে সেই উদ্দেশ্য পূরণ হচ্ছে না।

তিনি আরও জানান, গলাচিপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেও সিজারিয়ান অপারেশনের ব্যবস্থা নেই। ফলে অনেক রোগীকে পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যেতে হয়, যা দরিদ্র মানুষের পক্ষে অনেক সময় সম্ভব হয়ে ওঠে না।

পরিবার পরিকল্পনা  উপ-পরিচালক শহিদুল ইসলাম বলেন, যথাযথ জনবল না থাকায় এখানে পূর্ণাঙ্গ স্বাস্থ্যসেবা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। উপজেলায় চিকিৎসক নেই । বিষয়টি সরকারের নীতিগত সিদ্ধান্তের সঙ্গে জড়িত। আমরা বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি এবং তারা চেষ্টা করছেন। চিকিৎসক পদায়ন হলে এ হাসপাতাল থেকে চিকিৎসাসেবা দেওয়া সম্ভব হবে।

স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত দক্ষিণ পানপট্টি মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রে চিকিৎসকসহ প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ দিয়ে পূর্ণাঙ্গ চিকিৎসাসেবা চালু করা হোক। এতে করে এলাকার মা ও শিশুদের জন্য নিরাপদ ও সহজলভ্য স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত হবে।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।