মান্দা (নওগাঁ) প্রতিনিধি
নওগাঁর মান্দা উপজেলায় জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে একটি বসতবাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে প্রতিপক্ষের ভাড়াটিয়া কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, সাদা পোশাকে কয়েকজন পুলিশ সদস্যের উপস্থিতিতে এ হামলার ঘটনা ঘটে।
সোমবার (৯ মার্চ) সকাল ৯টার দিকে উপজেলার সতিহাট বাসস্ট্যান্ডের অদূরে শ্রীরামপুর পূর্বপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় আমছের আলী প্রামাণিক নামে এক ব্যক্তিকে আটক করে স্থানীয়রা পুলিশের কাছে সোপর্দ করেছেন। তিনি রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার খামারগাঁ গ্রামের মৃত ইসমাইল প্রামাণিকের ছেলে।
ভুক্তভোগী আল মাহমুদ হক জুয়েল জানান, তাদের ভোগদখলীয় জমিতে রোববার (৮ মার্চ) সকালে আমছের আলী ভাড়াটিয়া লোকজন দিয়ে ইট-বালু ফেলে ঘর নির্মাণের কাজ শুরু করেন। বিষয়টি নিয়ে তিনি মান্দা থানায় অভিযোগ করলেও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে দাবি করেন।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, সোমবার সকালে আমছের আলী অর্ধশতাধিক ভাড়াটিয়া কিশোর গ্যাং নিয়ে তাদের বসতবাড়িতে হামলা চালায়। হামলাকারীরা রামদা ও দেশীয় অস্ত্র দিয়ে ঘরের ঢেউটিনের ছাউনি কুপিয়ে নষ্ট করে এবং ঘরের টিভি, ফ্রিজ, স্যুটকেস, ফিটিংস পাইপসহ বিভিন্ন আসবাবপত্র ভাঙচুর করে। এ সময় ব্যাংক থেকে ঋণ নেওয়া ১০ লাখ টাকা, স্বর্ণালঙ্কার, জমির দলিল ও একটি মোটরসাইকেল লুট করে নিয়ে যায় বলে অভিযোগ করেন তিনি। হামলার সময় পরিবারের শিশু মেয়ে জেমি ও তার মাকেও মারধর করা হয় বলেও জানান তিনি।
ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্য পলি খাতুন অভিযোগ করে বলেন, ভাঙচুরের সময় সাদা পোশাকে তিনজন পুলিশ সদস্য আশপাশে ঘোরাফেরা করলেও তারা কোনো সহযোগিতা করেননি। এমনকি থানার ওসিকে একাধিকবার ফোন করেও সাড়া পাওয়া যায়নি বলে দাবি করেন তিনি।
পলি খাতুনের অভিযোগ, আটক আমছের আলীর ছেলে পুলিশে চাকরি করায় থানা পুলিশ তাদের সহযোগিতা না করে বরং প্রতিপক্ষের পক্ষ নিয়েছে। ঘটনার প্রায় চার ঘণ্টা পর পুলিশ ঘটনাস্থলে আসে বলেও জানান তিনি।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে মান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কেএম মাসুদ রানাকে ফোন করা হলে তিনি সাংবাদিক পরিচয় পেয়ে ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন। পরে একাধিকবার চেষ্টা করেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

