আলফাডাঙ্গা (ফরিদপুর) প্রতিনিধি
ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলায় জমির আগাছা ফেলা নিয়ে তুচ্ছ বিরোধকে কেন্দ্র করে এক অন্তঃসত্ত্বা নারীসহ একই পরিবারের তিনজনকে মারধর করে আহত করার অভিযোগ উঠেছে।
শনিবার (১৪ মার্চ) সকালে উপজেলার টগরবন্দ ইউনিয়নের কুমুরতিয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। আহতরা হলেন—ওই গ্রামের গোবিন্দ বিশ্বাস (৫০), তার স্ত্রী মনিরা বিশ্বাস (৪০) এবং তাদের পাঁচ মাসের অন্তঃসত্ত্বা মেয়ে রুপালি বিশ্বাস (২৩)।
ঘটনার পর ভুক্তভোগী গোবিন্দ বিশ্বাস বাদী হয়ে শনিবার দুপুরে আলফাডাঙ্গা থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
লিখিত অভিযোগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কুমুরতিয়া গ্রামে গোবিন্দ বিশ্বাসের বসতবাড়ির পাশেই তার একটি চাষের জমি রয়েছে। জমির সীমানা ঘেঁষেই প্রতিবেশী তারা শেখের (৬০) জমি অবস্থিত। শনিবার সকালে তারা শেখ তার জমির আগাছা ও ময়লা গোবিন্দ বিশ্বাসের জমিতে ফেললে তিনি এতে বাধা দেন। এ নিয়ে উভয়ের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়।
একপর্যায়ে অভিযোগ রয়েছে, ক্ষিপ্ত হয়ে তারা শেখ কাঠের লাঠি ও দেশীয় অস্ত্র দিয়ে গোবিন্দ বিশ্বাসের ওপর হামলা চালান। এ সময় তাকে রক্ষা করতে গেলে তার স্ত্রী মনিরা বিশ্বাস ও মেয়ে রুপালি বিশ্বাসকেও মারধর করা হয়। এতে তিনজনই আহত হন।
পরে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে আলফাডাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে মনিরা বিশ্বাস চিকিৎসাধীন রয়েছেন। অন্যদিকে অন্তঃসত্ত্বা রুপালি বিশ্বাসের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য গোপালগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। আহত গোবিন্দ বিশ্বাস প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত তারা শেখের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
আলফাডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল হাসনাত খান জানান, এ ঘটনায় একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে এবং অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

