বাবুগঞ্জ (বরিশাল) প্রতিনিধি
বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলায় এক তরুণের মানবিক উদ্যোগে অসহায় ও দুস্থ মানুষের পাশে দাঁড়ানোর অনন্য দৃষ্টান্ত সৃষ্টি হয়েছে। নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী একাই বিভিন্ন সামাজিক ও মানবিক কার্যক্রম পরিচালনা করছেন অনার্স পড়ুয়া তরুণ যুবক জহিরুল ইসলাম।
জানা গেছে, বাবুগঞ্জ উপজেলার দেহেরগতি ইউনিয়নের বাহেরচর ক্ষুদ্রকাঠি গ্রামের বাসিন্দা জহিরুল ইসলাম বর্তমানে বরিশালের সৈয়দ হাতেম আলী কলেজে অনার্সে অধ্যয়ন করছেন।
পড়াশোনার পাশাপাশি কিশোর বয়স থেকেই তিনি মানবসেবামূলক কাজে নিজেকে সম্পৃক্ত করেছেন। কোনো সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত না থেকেও নিজের উদ্যোগে সমাজের অসহায় ও দরিদ্র মানুষের পাশে দাঁড়াচ্ছেন তিনি।
জহিরুল ইসলাম জানান, অসহায় মানুষের কষ্ট তাকে নাড়া দেয়। তাই নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী সব সময় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেন। পবিত্র রমজান মাসে তিনি দরিদ্র পরিবারের জন্য ইফতারের বাজার ও ঈদের জন্য নতুন জামাকাপড় কিনে দেন। আবার শীত মৌসুমে শীতবস্ত্র বিতরণ করেন। কোনো পরিবার অভাবে থাকলে তাদের জন্য চাল, ডালসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় মুদি সামগ্রী কিনে দেন। এছাড়া টাকার অভাবে চিকিৎসা করতে না পারা অসহায় মানুষের চিকিৎসার ব্যবস্থাও করে দেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, আমি নির্দিষ্ট কোনো সংস্থার সঙ্গে কাজ করি না। নিজের উদ্যোগেই যতটুকু পারি মানুষের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করি। আমার মূল উদ্দেশ্য হলো সমাজের দুর্দশাগ্রস্ত মানুষের মুখে হাসি ফোটানো এবং তাদের কষ্ট বোঝার চেষ্টা করা।
এলাকাবাসী জানান, অল্প বয়সেই জহিরুল ইসলামের মধ্যে যে মানবিকতা ও সহমর্মিতা তৈরি হয়েছে, তা সত্যিই প্রশংসনীয়। তার এই উদ্যোগ অন্য তরুণদেরও সমাজসেবামূলক কাজে এগিয়ে আসতে অনুপ্রাণিত করবে।
মানবিক এসব কার্যক্রমের ভিডিও চিত্র ও ছবি তিনি নিয়মিত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশ করেন। “এইচ এম জহিরুল ইসলাম” নামে তার ফেসবুক আইডির মাধ্যমে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর বিভিন্ন মুহূর্তের ভিডিও ও ছবি শেয়ার করা হয়। এসব মানবিক কাজের দৃশ্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বাবুগঞ্জসহ আশপাশের এলাকার মানুষের মাঝে ইতিবাচক সাড়া সৃষ্টি হয়েছে এবং অনেকেই তার এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন।
সচেতন মহলের মতে, সমাজের বিত্তবান ও সামর্থ্যবান মানুষরা এগিয়ে এলে জহিরুল ইসলামের মতো তরুণদের মানবিক উদ্যোগ আরও বিস্তৃত হবে এবং সমাজের অসহায় মানুষের মুখে আরও বেশি হাসি ফুটবে।

