মহম্মদপুর (মাগুরা) প্রতিনিধি
মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলায় নতুন প্রশাসক নিয়োগকে কেন্দ্র করে চলছে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা। বাজার, চায়ের দোকান, রাজনৈতিক অঙ্গন—সবখানেই এখন একটাই প্রশ্ন, কে হচ্ছেন মহম্মদপুর উপজেলা প্রশাসক?
এ গুরুত্বপূর্ণ পদকে ঘিরে স্থানীয় রাজনীতিতে তৈরি হয়েছে নানা জল্পনা-কল্পনা। প্রাথমিক মাঠসমীক্ষা ও স্থানীয় রাজনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, অন্তত দশজন আলোচিত ব্যক্তির নাম ঘুরছে আলোচনার কেন্দ্রে। তাদের মধ্যে রয়েছেন—অ্যাডভোকেট রোকনুজ্জামান খান, অধ্যক্ষ (অবঃ) মো: মতিউর রহমান, অধ্যক্ষ মো: মৈমুর আলী মৃধা, রবিউল ইসলাম নয়ন, মো. জাহাঙ্গীর আলম খান বাচ্চু, মো. আক্তারুজ্জামান, মো. গোলাম আজম সাবু, অ্যাডভোকেট মো. মনিরুল ইসলাম মুকুল, আখতারুজ্জামান বিল্লাহ এবং অ্যাডভোকেট আহসান হাবিব খান সোহেল।
অ্যাডভোকেট রোকনুজ্জামান খান মাগুরা জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও একজন অভিজ্ঞ আইনজীবী হিসেবে এলাকায় সুপরিচিত। অন্যদিকে বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যক্ষ মতিউর রহমান, যিনি সাবেক জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি,বিশিষ্ট শিক্ষানুরাগী ও শিক্ষা ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন, তিনিও আলোচনায় রয়েছেন।
এছাড়া অধ্যক্ষ মৈমুর আলী মৃধা, সাবেক ছাত্রনেতা ও উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক হিসেবে রাজনৈতিক অঙ্গনে সক্রিয়। মো. জাহাঙ্গীর আলম খান বাচ্চু উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক হিসেবে পরিচিত মুখ।
মো. আক্তারুজ্জামান উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব এবং দুই মেয়াদে সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ছিলেন। গোলাম আজম সাবু ছাত্রজীবন থেকেই বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত এবং উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও বিনোদপুর ইউপি’র সাবেক চেয়ারম্যান।
অ্যাডভোকেট মো. মনিরুল ইসলাম মুকুল সাবেক ছাত্রনেতা ও পলাশবাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। আখতারুজ্জামান বিল্লাহ বর্তমানে বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি এবং একজন উদীয়মান রাজনৈতিক নেতা।
অন্যদিকে অ্যাডভোকেট আহসান হাবিব খান সোহেল, সাবেক ছাত্রনেতা ও উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে তরুণদের মধ্যে জনপ্রিয়তা অর্জন করেছেন।
এদিকে, রবিউল ইসলাম নয়নের নামও আলোচনায় রয়েছে জোরেশোরে। তিনি ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবদলের সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তবে এ বিষয়ে তিনি ভিন্নমত প্রকাশ করে জানিয়েছেন, স্থানীয় নেতৃত্ব থেকেই উপজেলা প্রশাসক নিয়োগ হওয়াই যুক্তিযুক্ত।
স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এ পদে নিয়োগে দলীয় আস্থা, ব্যক্তিগত গ্রহণযোগ্যতা, সামাজিক অবদান এবং কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সঙ্গে সম্পর্ক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। বিশেষ করে মাগুরা-২ আসনের সংসদ সদস্য ও সংস্কৃতিমন্ত্রীর আস্থার বিষয়টিও বড় ফ্যাক্টর হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
সবমিলিয়ে, গুরুত্বপূর্ণ এই পদে কে আসছেন—তা নিয়ে এখনো ধোঁয়াশা কাটেনি। স্থানীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ অপেক্ষায় রয়েছেন চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের।

