মো. ইব্রাহীম মিঞা, দিনাজপুর প্রতিনিধি
মহান স্বাধীনতা দিবস ২৬ মার্চ উপলক্ষে দিনাজপুরের বিরামপুরে উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে দিবসটি যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হয়েছে। তবে পুরো আয়োজনের মাঝে সবচেয়ে হৃদয়স্পর্শী দৃশ্য হয়ে ওঠেন শতবর্ষী বৃদ্ধ বিনয় মহন্ত।
ঐতিহ্যবাহী বিরামপুর আনসার মাঠ প্রাঙ্গণে আয়োজিত বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্ধনা ও আলোচনা সভার সময়, তীব্র রোদ উপেক্ষা করে লাঠিতে ভর দিয়ে মাথায় গামছা বেঁধে দাঁড়িয়ে মনোযোগ দিয়ে পুরো আলোচনা শুনছিলেন তিনি। বয়সের ভার তাকে দমিয়ে রাখতে পারেনি—বরং মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস, শহীদদের ত্যাগ, গণহত্যার বিভীষিকা ও সেই কালো রাতের স্মৃতিচারণ শোনার প্রতি ছিল তার গভীর আকাঙ্ক্ষা।
তার এই দৃশ্য উপস্থিত সকলকে আবেগাপ্লুত করে তোলে। নতুন প্রজন্ম যখন অনেক সময় ইতিহাস জানতে আগ্রহ হারায়, সেখানে শতবর্ষী এই মানুষটির দেশপ্রেম ও জানার আগ্রহ সত্যিই অনুপ্রেরণার প্রতীক হয়ে ওঠে। সেই আবেগঘন মুহূর্তটি ধরা পড়ে প্রতিবেদকের ক্যামেরায়।
এর আগে দিনের প্রথম প্রহরে ৩১ বার তোপধ্বনির মাধ্যমে দিবসটির সূচনা হয়। পরে বিরামপুর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ, নীরবতা পালন ও দোয়ার মাধ্যমে শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করা হয়।
পরবর্তীতে আনসার মাঠে জাতীয় সংগীতের মাধ্যমে জাতীয় পতাকা উত্তোলন, কুচকাওয়াজ ও প্যারেড, গার্লস গাইড পরিদর্শন, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ডিসপ্লে প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়। দিবসের মূল আকর্ষণ ছিল দৃষ্টিনন্দন ডিসপ্লে, যেখানে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। এছাড়াও রচনা ও অঙ্কন প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার প্রদান করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার তাহমিনা সুলতানা নীলা। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) নাজিয়া নওরিন, সার্কেল এসপি হারেছ উদ্দিন, তদন্ত ওসি আতাউর রহমান, স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, বীর মুক্তিযোদ্ধাগণ, বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী, শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।
আলোচনা সভা শেষে প্রীতি ফুটবল ম্যাচ ও মুক্তিযোদ্ধাদের আপ্যায়নের মধ্য দিয়ে দিবসের কর্মসূচি সমাপ্ত হয়।
সবকিছুর মাঝেও সবার নজর কেড়েছে একটাই দৃশ্য—
বিনয় মহন্তের অদম্য দেশপ্রেম, যা নতুন প্রজন্মের জন্য এক জীবন্ত শিক্ষা হয়ে থাকবে।

