যশোর প্রতিনিধি
যশোর জেলায় বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক থেকে ঋণ নেওয়া ৭ হাজার ৬৩৮ জন কৃষকের সুদসহ কৃষিঋণ মওকুফ করা হচ্ছে। সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এই ঋণ মওকুফের ফলে ব্যাংকটির মোট প্রায় ৬ কোটি ৫৮ লাখ টাকার পাওনা পরিশোধ থেকে অব্যাহতি পাচ্ছেন এসব কৃষক।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক যশোর মুখ্য আঞ্চলিক কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, জেলার ২২টি শাখার মধ্যে সবচেয়ে বেশি ঋণ মওকুফ হয়েছে যশোর সদর উপজেলায়। যশোর শাখায় ১ হাজার ৯২৮ জন কৃষক এ সুবিধা পাচ্ছেন। এছাড়া গোপালপুর বাজার শাখায় ১ হাজার ৫৫ জন, মণিরামপুরে ৭৭০ জন, চৌগাছায় ৫২০ জন, রূপদিয়ায় ৪৭৭ জন এবং বাঘারপাড়ায় ৩৯৬ জন কৃষক ঋণ মওকুফের আওতায় এসেছেন।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের যশোর অঞ্চলের উপ-মহাব্যবস্থাপক এনায়েত করিম জানান, নতুন সরকার গঠনের পর ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ সুদসহ মওকুফের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, এটি একটি ‘কৃষিবান্ধব ও মানবিক’ উদ্যোগ, যা প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র কৃষকদের নতুন করে চাষাবাদে উৎসাহিত করবে। ঋণ মওকুফের পর কৃষকরা পুনরায় নতুন ঋণ গ্রহণের সুযোগ পাবেন। তবে একই ব্যক্তি একাধিক ঋণ নিয়ে থাকলে তিনি এই সুবিধার আওতায় আসবেন না।
সরকারের এই সিদ্ধান্তে খুশি হয়েছেন কৃষকরা। যশোর সদর উপজেলার সিরাজসিংহা গ্রামের কৃষক শাহীন বলেন, “আমরা গরিব মানুষ, এই ঋণ মওকুফ আমাদের জন্য অনেক বড় স্বস্তি।”
এছাড়া মৃত কৃষকদের পরিবারও এই সুবিধার আওতায় আসছে। রামনগর ইউনিয়নের মৃত রশিদের ছোট ভাই অহিদ আলী বলেন, “লোন মাফ হলে আমাদের অনেক উপকার হবে।” একইভাবে ভাটপাড়া এলাকার শঙ্কর অধিকারী জানান, তার বাবার পুরোনো ঋণ মওকুফ হওয়ায় পরিবারটি স্বস্তি পেয়েছে।
যশোর-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, সারা দেশে প্রায় সাড়ে ১২ লাখ কৃষক এই সুবিধা পাবেন এবং এতে সরকারের প্রায় দেড় হাজার কোটি টাকা মওকুফ করতে হবে। তিনি জানান, এর ফলে কৃষকরা ঋণের বোঝা থেকে মুক্ত হয়ে নতুন করে উৎপাদনে বিনিয়োগ করতে পারবেন।

