গিয়াস উদ্দিন মিয়া, গৌরনদী (বরিশাল) প্রতিনিধি
বরিশালের আগৈলঝাড়া সদরের পশ্চিম সুজনকাঠীতে শ্রীশ্রী হরি গুরুচাঁদ ঠাকুর মন্দিরটি ভাঙচুর ও জমি দখলের আশঙ্কায় আদালতে মামলা দায়ের করা হলেও শেষ রক্ষা হয়নি।
আদালতের নির্দেশ অমান্য করে শ্রীশ্রী হরি গুরুচাঁদ ঠাকুর মন্দিরটি ভবন ভাঙচুর করা হয়েছে। মামলার বাদী অমল চন্দ্র হালদার (৫০) বাধাঁ দেয়। বাঁধা উপেক্ষা করে প্রতিপক্ষরা আগৈলঝাড়া থানা পুলিশের সহয়তায় মন্দিরটি ভাঙচুর করে। প্রভাবশালীদের হুমকির মুখে মামলার বাদি অমল চন্দ্র হালদার পালিয়ে বেড়াচ্ছে বেড়াচ্ছেন।
মামলার বাদী আগৈলঝাড়া উপজেলার আস্কর নিবাসী ও ইন্টারন্যাশনাল মতুয়া মিশন বাংলাদেশ এর যুগ্ম আপ্যায়ন বিষয়ক সম্পাদক অমল চন্দ্র হালদার শনিবার দুপুরে গৌরনদীর সাংবাদিকদের কাছে অভিযোগ করেন, আগৈরঝাড়া উপজেলা সদরের কেন্দ্রীয় কালী মন্দিরের আঙিনায় শ্রীশ্রী হরি গুরুচাঁদ ঠাকুর মন্দির প্রতিষ্ঠিত।
জে.এল ৪১, বি.আর.এস খতিয়াননং-৬২১,
বি.আর.এস দাগ নং-১৪৮ মোট জমির পরিমান ৩৪.৩৭ শতাংশ। যার মধ্যে শ্রীশ্রী হরি গুরুচাঁদ ঠাকুর মন্দিরের ৫ শতাংশ জমি ভোগ দখলীয়।
এ মন্দিরে প্রতিদিন ভক্ত বৃন্দদের উপস্থিতিতে পূজা অর্চনা ও মহোৎসব করে আসতেছে। উক্ত মন্দিরটি দীর্ঘদিন যাবত উক্ত স্থানে রয়েছে। গত ৭ মার্চ সকাল ১০টার দিকে বিবাদী সঞ্জিত কুমার বাড়ৈ (৫৫), অমূল্য রতন বাড়ৈ (৫৪), মিন্টু মন্ডল (৪৫) ও কার্তিক বেপারীসহ আরো অনেকে মন্দির ভাঙার জন্য আসে। এ সময় বাদী অমল চন্দ্র হালদার সহ স্বাক্ষীরা বাধা প্রদান করিলে বিবাদীরা বাধার মুখে শ্রীশ্রী হরি গুরুচাঁদ ঠাকুর মন্দির ভাঙতে পারেনি।
এ সময় বিবাদীরা অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে এবং খুন জখমের হুমকি প্রদান করেন। এ ঘটনায় গত ৯ মার্চ বরিশাল অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে অমল চন্দ্র হালদার বাদি হয়ে সঞ্জিত কুমার বাড়ৈ, অমূল্য রতন বাড়ৈ , মিন্টু মন্ডল ও কার্তিক বেপারীসহ অজ্ঞাতনামা কয়েকজনকে বিবাদী করে মামলা দায়ের করেন।
আদালতের বিচারক বিরোধয়ি সম্পত্তির দখল ও মালিকানা বিষয়ে সরেজমিনে তদন্ত করে আগৈলঝাড়া সহকারী কমিশনার (ভূমি)কে প্রতিবেদন দাখিল ও আগৈলঝাড়া থানাকে বিরোধীয় সম্পত্তিতে শান্তি শংঙলা বজায় রাখতে নির্দেশ প্রদান করেন।
আগৈলঝাড়া থানার ওসি মো. মাসুদ হাসান খান বলেন, ‘আদালতের নিদের্শ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার জন্য থানার ওসি (তদন্ত) সুশংকর মল্লিককে দায়িত্ব দেই’।
ইন্টারন্যাশনাল শ্রীশ্রী হরি-গুরুচাঁদ মিশনের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি বিমল চন্দ্র কর অভিযোগ করে বলেন, ‘ আগৈলঝাড়া থানার ওসি (তদন্ত) সুশংকর মল্লিক গত ১০ মার্চ মামলার বাদি ও বিবাদীকে শান্তি শৃঙলা বজায় রাখার জন্য নোটিশ প্রদান করেন।
নোটিশ প্রদানের এক দিন পর ওসি (তদন্ত) সুশংকর মল্লিক মামলার বাদি অমল চন্দ্র হালদারকে থানায় নিয়ে এসে তিনটি সাদা কাগজে জোর পূর্বক স্বাক্ষর নেন। পরবর্তীতে অমল চন্দ্র হালদারকে বিরোধপূর্ন মন্দিরের নিয়ে তার উস্থিতিতে মন্দির ভাঙচুর করে।
অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন,‘আদলতের নিদের্শে স্থায়ী নিষেধাজ্ঞার জন্য বাদির স্বাক্ষর নেয়া হয়েছে।
প্রতিপক্ষ অভিযুক্ত অমূল্য রতন বাড়ৈ জানান, আগৈলঝাড়া উপজেলার পশ্চিম সুজনকাঠী মৌজার বিএস ৬২১ নং খতিয়ানে ১৪৮ নং দাগের মালিক শ্রীশ্রী কেন্দ্রীয় কালি মন্দির। মন্দির সং¯কার করার জন্য পুরাতন ভবন সহ অন্যান্য ভবন ভাঙা হয়েছে। নতুন ভবন নির্মান করার পর শ্রীশ্রী হরি গুরুচাঁদ ঠাকুর মন্দির স্থাপন করা হবে।

