স্টাফ রিপোর্টার, চিতলমারী (বাগেরহাট)
বাগেরহাটের চিতলমারী উপজেলায় গবাদিপশুর মধ্যে লাম্পি স্কিন ডিজিজ (এলএসডি) ছড়িয়ে পড়েছে। ভাইরাসজনিত এ রোগে আক্রান্ত হয়ে একাধিক পশুর মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। এতে খামারি ও গৃহস্থদের মধ্যে চরম উদ্বেগ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, গ্রীষ্মের শুরুতেই উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় গবাদিপশুর শরীরে লাম্পি স্কিন রোগের লক্ষণ দেখা দিচ্ছে। আক্রান্ত পশুর শরীরে গুটি, ক্ষত ও পচন ধরছে, সঙ্গে থাকছে উচ্চ জ্বর। অনেক পশু খাবার গ্রহণ বন্ধ করে দুর্বল হয়ে পড়ছে, এমনকি দাঁড়াতেও পারছে না। যথাযথ চিকিৎসার অভাবে অনেক পশু মারা যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
উপজেলার শ্যামপাড়া গ্রামের বাসিন্দা অসীম মণ্ডল জানান, তার একটি গরু কয়েকদিন ধরে এ রোগে আক্রান্ত ছিল। চিকিৎসা করিয়েও শেষ রক্ষা হয়নি। বুধবার (১ এপ্রিল) সকালে গরুটি মারা যায়। যার মূল্য ছিল প্রায় এক লাখ টাকা। একই গ্রামের স্বপন মণ্ডলের একটি গাভীও এ রোগে মারা গেছে।
এছাড়া ব্রহ্মগাতী গ্রামের আশরাফ শেখ জানান, তার প্রতিবেশী সেকেন্দার হাওলাদার ও বক্কর শেখসহ অনেকের গবাদিপশু আক্রান্ত হয়েছে। উমাজুড়ি গ্রামের অগূর্ব হীরা ও ধলইতলার আবু সাইদ শেখও তাদের পশু আক্রান্ত হওয়ার কথা জানিয়েছেন।
খামারিরা অভিযোগ করেন, উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরে এ রোগের প্রয়োজনীয় ভ্যাকসিন না থাকায় তারা সঠিক চিকিৎসা পাচ্ছেন না। ফলে ক্ষতির পরিমাণ বাড়ছে। দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন তারা।
এ বিষয়ে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মো. আহম্মেদ ইকবাল জানান, লাম্পি স্কিন ডিজিজ একটি ভাইরাসজনিত চর্মরোগ, যা মশা-মাছি ও অন্যান্য পতঙ্গের মাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় রোগের প্রাদুর্ভাবের খবর পাওয়া গেছে। বর্তমানে ভ্যাকসিনের কোনো মজুদ নেই, তবে দ্রুত সরবরাহ নিশ্চিত করতে চেষ্টা চলছে।
তিনি খামারিদের আক্রান্ত পশুকে আলাদা রাখা, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা এবং দ্রুত নিকটস্থ প্রাণিসম্পদ দপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেন।

