মোঃ ইব্রাহীম মিঞা,দিনাজপুর প্রতিনিধি
বিরামপুর চ্যালেঞ্জ কাপ ক্রিকেট টুর্নামেন্ট-২০২৬ এর রোমাঞ্চকর ফাইনাল জয়ের মধ্য দিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে “সুমন স্মৃতি ফাইটার্স”—তবে এই জয়ের পেছনে লুকিয়ে আছে এক হৃদয়স্পর্শী গল্প, ভালোবাসা আর স্মৃতির গভীর আবেগ।
অকালপ্রয়াত তরুণ ক্রিকেটার সুমনের স্মৃতিকে বাঁচিয়ে রাখতে তার ছোট ভাই সোহেল রানা প্রথমবারের মতো এই টুর্নামেন্টে “সুমন স্মৃতি ফাইটার্স” নামে দল গঠন করেন। ভাই হারানোর বেদনাকে শক্তিতে পরিণত করে মাঠে নামা এই দলটি শুধু অংশগ্রহণই করেনি, বরং দুর্দান্ত পারফরম্যান্স দেখিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়ে সবার হৃদয় জয় করে নিয়েছে।
জানা যায়, সুমন বিরামপুর পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের হাবিবপুর গ্রামের বাসিন্দা এবং সাবেক ইউপি সদস্য মরহুম মোস্তাফিজুর রহমান (মোস্তাক মেম্বার)-এর দ্বিতীয় সন্তান ছিলেন। তিনি নিজেও একজন প্রতিভাবান ক্রিকেটার ছিলেন এবং খেলাধুলার প্রতি ছিল তার গভীর অনুরাগ। কিন্তু অকাল মৃত্যু তার সেই স্বপ্ন থামিয়ে দেয়।
ভাইয়ের সেই অপূর্ণ স্বপ্নকেই নিজের লক্ষ্য বানিয়ে এগিয়ে যান সোহেল রানা। সশস্ত্র বাহিনীতে কর্মরত এই ক্রীড়াবিদ ইতোমধ্যেই হ্যান্ডবল খেলায় আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ২টি ব্রোঞ্জ পদক এবং জাতীয় পর্যায়ে ১২টি স্বর্ণপদক অর্জন করেছেন। ক্রীড়াঙ্গনে তার এই সাফল্যের ধারাবাহিকতায় এবার যুক্ত হলো এক নতুন অধ্যায়—ভাইয়ের নামে গড়া দলকে চ্যাম্পিয়ন করা।
শনিবার (৪ এপ্রিল) বিরামপুরের ঐতিহ্যবাহী বড় মাঠে অনুষ্ঠিত ফাইনালে থানাপাড়া নেক্সাসের বিপক্ষে দারুণ জয় পায় সুমন স্মৃতি ফাইটার্স। জয়ের পর পুরো মাঠজুড়ে তৈরি হয় আবেগঘন এক পরিবেশ। ট্রফি হাতে খেলোয়াড়দের চোখেমুখে ছিল গর্ব, আর দর্শকদের মাঝে ছিল এক অন্যরকম ভালোবাসা—যেন এই জয় শুধু একটি দলের নয়, বরং এক ভাইয়ের প্রতি আরেক ভাইয়ের অমলিন শ্রদ্ধার প্রতিচ্ছবি।
সোহেল রানা জানান, “ভাই সুমন খেলাধুলাকে ভীষণ ভালোবাসতেন। তার স্বপ্ন ছিল বড় ক্রিকেটার হওয়ার। আজ তার নামে দল গড়ে চ্যাম্পিয়ন হতে পেরে মনে হচ্ছে, তার সেই স্বপ্নের একটা অংশ পূরণ করতে পেরেছি।”
স্থানীয় ক্রীড়াপ্রেমীরা বলছেন, এই জয় বিরামপুরের ক্রীড়াঙ্গনে শুধু একটি শিরোপা জয় নয়, বরং ভালোবাসা, স্মৃতি আর অনুপ্রেরণার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।
সুমনের স্মৃতিকে বুকে ধারণ করে “সুমন স্মৃতি ফাইটার্স”-এর এই পথচলা যে আরও অনেক দূর এগিয়ে যাবে—এমনটাই প্রত্যাশা সকলের।

