জি এম মুজিবুর রহমান, আশাশুনি (সাতক্ষীরা) প্রতিনিধি
সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার আনুলিয়া ইউনিয়নের কাকবাসিয়া এলাকায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) বেড়িবাঁধে ভয়াবহ ভাঙন দেখা দিয়েছে। এতে করে এলাকার হাজার হাজার পরিবার চরম আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কাকবাসিয়া খেয়াঘাট সংলগ্ন পাউবো’র বাঁধে সম্প্রতি মাটি-বালিভর্তি জিও ব্যাগ (জিএ ব্যাগ) ফেলে ভাঙন প্রতিরোধের কাজ করা হয়েছিল। এতে এলাকাবাসী সাময়িক স্বস্তি পেলেও কয়েকদিন আগে বাঁধে ফাটল দেখা দেয়। তবে তাৎক্ষণিক কোনো কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ায় পরিস্থিতি দ্রুত অবনতি ঘটে।
রবিবার (৫ এপ্রিল) সকাল ৮টার দিকে খোলপেটুয়া নদীর প্রবল স্রোতের চাপে সবুর গাজীর বাড়ির নিকটস্থ ফাটল অংশে বড় ধরনের ভাঙন সৃষ্টি হয়। মুহূর্তের মধ্যে প্রায় ১০০ হাত বাঁধ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়। বর্তমানে ভাঙন অব্যাহত থাকায় পুরো বাঁধটি মারাত্মক ঝুঁকির মুখে রয়েছে।
এদিকে, সম্প্রতি ডাম্পিং করা অংশের কাছাকাছি পর্যন্ত ভাঙন পৌঁছে গেছে। এছাড়া বাঁধের ৫০ ফুট উত্তরে ও ১০০ ফুট দক্ষিণে আরও দুটি পয়েন্টে বাঁধের অবস্থা অত্যন্ত নাজুক হয়ে পড়েছে। দ্রুত সংস্কার কাজ শুরু না হলে যে কোনো সময় বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
ভাঙনের খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন আনুলিয়া ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ রুহুল কুদ্দুছ, ইউনিয়ন জামায়াতের আমীর মাওলানা হারুন অর রশিদ, শিক্ষক আবু দাউদ ও মাওলানা শহিদুল ইসলামসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।
ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ রুহুল কুদ্দুছ বলেন, “ভাঙনটি অত্যন্ত ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। প্রতিনিয়ত বাঁধের মাটি নদীতে ধ্বসে পড়ছে। গত বছর ঈদের দিন নামাজের সময় বাঁধ ভেঙে পুরো এলাকা প্লাবিত হয়েছিল। এতে আনুলিয়ার প্রায় ১৫ হাজার মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়, ঘরবাড়ি, ফসল ও মাছের ঘের-পুকুর তলিয়ে যায়।”
তিনি আরও বলেন, “আজ রাতের জোয়ারের আগেই জরুরি ব্যবস্থা না নিলে বাঁধ রক্ষা করা কঠিন হয়ে পড়বে। দ্রুত জেলা প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপ জরুরি।”
এ বিষয়ে স্থানীয়দের দাবি, অবিলম্বে জরুরি ভিত্তিতে জিও ব্যাগ ফেলে ডাম্পিংসহ টেকসই সংস্কার কাজ শুরু না করলে বড় ধরনের দুর্যোগের মুখে পড়বে পুরো এলাকা।

