পটুয়াখালী প্রতিনিধি
নার্সিং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের আড়ালে অনৈতিক সম্পর্ক ও প্রভাব খাটানোর গুরুতর অভিযোগে ফের আলোচনায় এক কলেজ চেয়ারম্যান। এবার তার বিরুদ্ধে পরকিয়ার অভিযোগ তুলে আদালতে মামলা করেছেন এক শিক্ষিকার স্বামী—যা ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে সংশ্লিষ্ট মহলে।
মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, প্রতিষ্ঠানের প্রভাবশালী অবস্থানকে কাজে লাগিয়ে ওই চেয়ারম্যান দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষিকা ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্ক গড়ে তুলেছেন। সর্বশেষ, এক শিক্ষিকার সঙ্গে তার পরকিয়ার সম্পর্কের অভিযোগে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
গত ৩১ মার্চ ঝালকাঠী সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলাটি করেন শিক্ষিকার স্বামী মো. মশিউর রহমান। মামলায় আসামি করা হয়েছে বরিশাল নগরীর রাজধাবী ও ডিডাব্লিউএফ নার্সিং কলেজের চেয়ারম্যান জহিরুল ইসলাম এবং একই প্রতিষ্ঠানের সহকারী অধ্যাপক ও বাদীর স্ত্রী আয়শা আক্তারকে।
এজাহারে উল্লেখ করা হয়, ২৭ মার্চ সকালে ঝালকাঠী সদর উপজেলার আলীপুর শশাংক গ্রামে শ্বশুরবাড়িতে তাদের আপত্তিকর অবস্থায় দেখতে পান বাদীর মা। এ সময় চিৎকার শুরু হলে অভিযুক্তরা ঘর থেকে নগদ টাকা ও স্বর্ণালঙ্কার নিয়ে দ্রুত একটি প্রাইভেটকারে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
আরও বলা হয়, ২০১৯ সালে বিয়ের পর তাদের সংসারে একটি সন্তান রয়েছে। তবে চাকরির সুবাদে চেয়ারম্যানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা গড়ে ওঠে, যা পরে অবৈধ সম্পর্কে রূপ নেয়। বিষয়টি একাধিকবার জানানো ও সতর্ক করার পরও সম্পর্ক অব্যাহত ছিল বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
শুধু পরকিয়ার অভিযোগেই থেমে নেই বিষয়টি। মামলায় চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে আরও বিস্ফোরক অভিযোগ আনা হয়েছে নার্সিং কলেজের আড়ালে নারী শিক্ষিকা ও ছাত্রীদের সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্ক, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং বিভিন্ন অনিয়ম-দুর্নীতির চিত্র তুলে ধরা হয়েছে।
এমনকি এক শিক্ষার্থীর সঙ্গে আপত্তিকর ফোনালাপের অডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার বিষয়টিও উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে অভিযুক্ত চেয়ারম্যানের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
উল্লেখ্য এই নার্সিং কলেজের অতীতের চেয়ারম্যানের পটুয়াখালী বরিশাল মাদারীপুর সহ বিভিন্ন জায়গায় একাধিক বেসরকারি নার্সিং কলেজ রয়েছে।
ঘটনাটি এখন শুধুই একটি পারিবারিক বিরোধ নয়—বরং প্রশ্ন উঠছে, একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের আড়ালে কতটা গভীরে গিয়েছে এই অনৈতিকতার জাল? সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে তদন্ত ও জবাবদিহিতা এখন সময়ের দাবি ভুক্তভোগীদের।

