যশোর প্রতিনিধি
দেশি গরুতেই জমে উঠেছে যশোরের কোরবানির পশুর হাটগুলো। ভারত থেকে গরু না আসায় স্থানীয় খামারিরা কিছুটা স্বস্তিতে থাকলেও আশানুরূপ দাম না পাওয়ায় তাদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। অন্যদিকে ক্রেতাদের অভিযোগ, উৎপাদন খরচ বৃদ্ধির অজুহাতে বিক্রেতারা এখনও গরুর দাম কমাচ্ছেন না।
কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে যশোরে আটটি বড় পশুর হাটের পাশাপাশি বিভিন্ন স্থানে আরও প্রায় ২৫টি অস্থায়ী হাট বসেছে। শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত ভারতীয় গরু না আসায় দেশি গরুতেই জমজমাট হয়ে উঠেছে এসব হাট।
জেলা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, যশোরে প্রায় সাড়ে ১৩ হাজার ছোট-বড় খামারি রয়েছেন। জেলার আটটি উপজেলায় কোরবানির জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে প্রায় ৩৬ হাজার গরু ও ৮১ হাজার ২৭৬টি ছাগল। জেলার চাহিদা রয়েছে প্রায় ৩০ হাজার গরু ও ৭০ হাজার ছাগলের। অর্থাৎ চাহিদার তুলনায় প্রায় ১৭ হাজার পশু বেশি রয়েছে।
তবে খামারি ও ব্যবসায়ীদের দাবি, এ বছর গোখাদ্যের দাম বৃদ্ধির কারণে গরু লালন-পালনে খরচ বেড়েছে, কিন্তু সেই অনুপাতে দাম পাচ্ছেন না তারা।
খামারি বাবুল সরদার বলেন, “এ বছর বিক্রির জন্য ১৪টি গরু হাটে এনেছি। আড়াই লাখ টাকার গরুর দাম ক্রেতারা দুই লাখ টাকা বলছে। গোখাদ্যের দাম বাড়ায় খরচও বেড়েছে। এভাবে চলতে থাকলে খামারি ব্যবসা ছেড়ে দিতে হবে।”
গরু ব্যবসায়ী রুহুল কুদ্দুস বলেন, “খামারি ও কৃষকদের কাছ থেকে যে দামে গরু কিনছি, তার চেয়ে কম দামে বিক্রি করতে হচ্ছে। অন্য বছরের তুলনায় এবার বাজারে দাম কম, ফলে ব্যবসায়ীদের লোকসান গুনতে হচ্ছে।”
অন্যদিকে কৃষক প্রসেনজিৎ কুমার বলেন, “ভারতীয় গরু না আসায় স্থানীয় খামারিরা কিছুটা লাভের আশা করেছিল। কিন্তু হাটে প্রচুর গরু থাকায় কাঙ্ক্ষিত দাম পাওয়া যাচ্ছে না।”
ক্রেতাদের ভাষ্য, বাজারে গরুর সরবরাহ ভালো থাকলেও বিক্রেতারা এখনও বেশি দাম হাঁকছেন।
ক্রেতা নুর ইসলাম বলেন, “গোখাদ্যের দাম বৃদ্ধির কথা বলে বিক্রেতারা গরু-ছাগলের দাম বেশি চাইছেন। কয়েকটি হাট ঘুরেছি, পরিবেশ ভালো এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থাও সন্তোষজনক। তবে দরদাম নিয়ে এখনও সমস্যা হচ্ছে।”
যশোরের বাগআঁচড়া সাতমাইল হাটের ইজারাদার কুদ্দুস আলী বিশ্বাস জানান, “এবার হাটে গরুর আমদানি অনেক বেশি, কিন্তু বেচাকেনা তুলনামূলক কম। ক্রেতারা পছন্দের গরু পেলেও বেশি দামের কারণে কিনতে পারছেন না।”
নিরাপত্তা ব্যবস্থার বিষয়ে যশোরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মিজারুল ইসলাম বলেন, “প্রতিটি হাটে সিসি ক্যামেরা ও জাল টাকা শনাক্তকরণ মেশিন বসানো হয়েছে। পোশাকধারী ও সাদা পোশাকের পুলিশ সদস্যরা দায়িত্ব পালন করছেন। চাঁদাবাজি বা কোনো ধরনের অনিয়ম ঠেকাতে জেলা পুলিশ সতর্ক রয়েছে।”
এদিকে যশোর জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. সিদ্দীকুর রহমান জানান, প্রতিটি পশুহাটে ভেটেরিনারি টিম কাজ করছে। অসুস্থ পশু, গর্ভবতী গাভী কিংবা অস্বাস্থ্যকর উপায়ে মোটাতাজাকরণ করা পশু যাতে বিক্রি না হয়, সে বিষয়ে কঠোর নজরদারি রাখা হচ্ছে।
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ মেহেদী হাসান
কার্যালয়ঃ দেশ ভিলা, বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ মিয়া সড়ক, জিটি স্কুল সংলগ্ন, টুঙ্গিপাড়া, গোপালগঞ্জ।
মোবাইলঃ ০১৭১৮-৫৬৫১৫৬, ০১৯৯৫-৩৮৩২৫৫
ইমেইলঃ mehadi.news@gmail.com
Copyright © 2026 Nabadhara. All rights reserved.