গোয়ালন্দ (রাজবাড়ী) প্রতিনিধি
রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া যৌনপল্লীতে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় এক ব্যক্তিকে কুপিয়ে মারাত্মক জখম করা হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
শুক্রবার (২৯ মে) গভীর রাতে দৌলতদিয়া যৌনপল্লী ও পার্শ্ববর্তী সামসু মাস্টারপাড়ায় পৃথক এ ঘটনা ঘটে। পরে পাল্টাপাল্টি অভিযোগের ঘটনা ঘটলেও শনিবার (৩০ মে) পর্যন্ত কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ। এ ঘটনায় এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।
হামলায় আহত ব্যক্তির নাম ইয়াকুব আলী পাল (৩৫)। তিনি দৌলতদিয়া শাহাদত মেম্বার পাড়ার মৃত করিম পালের ছেলে এবং রাজবাড়ী জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম-আহ্বায়ক শহিদ পালের ছোট ভাই। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, হামলায় তার বাম হাতের একটি আঙুল বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় এবং আরেকটি ঝুলন্ত অবস্থায় রয়েছে। গুরুতর অবস্থায় তাকে সাভার এমএএম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
ঘটনার বিবরণে জানা যায়, দৌলতদিয়া শামসু মাস্টারপাড়ার হুমায়ুনের একটি ফাস্টফুড দোকান ও জলসাঘর রয়েছে। শুক্রবার রাত ১টার দিকে ওই জলসাঘরে ইয়াকুব আলী পাল অবস্থান করছিলেন। এ সময় তার সঙ্গে হুমায়ুন ও সহকারী তুহিনের কথা কাটাকাটি ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে।
পরে বিষয়টি হুমায়ুন তার স্ত্রীর বড় ভাই অনিককে জানান। কিছুক্ষণ পর অনিক কয়েকজনকে সঙ্গে নিয়ে সেখানে এসে ইয়াকুব আলী পালকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর জখম করেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান।
অনিক দৌলতদিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক ইউপি সদস্য আইয়ুব আলী খানের ছোট ছেলে বলে জানা গেছে।
এদিকে ইয়াকুব আলী পালের ওপর হামলার খবর ছড়িয়ে পড়লে তার স্বজন ও বন্ধুরা হুমায়ুনের ফাস্টফুড দোকান ও জলসাঘরে ভাঙচুর চালায়। পরে তারা সামসু মাস্টারপাড়ায় হুমায়ুনের বাড়িতেও হামলা ও ভাঙচুর করে বলে জানা গেছে।
এ বিষয়ে হুমায়ুনের স্ত্রী মারুফা আক্তার অভিযোগ করে বলেন, দুর্বৃত্তরা বাসায় ঢুকে ভাঙচুর চালায় এবং আলমারিতে থাকা প্রায় তিন ভরি স্বর্ণালংকার ও ৩০ হাজার টাকা নিয়ে যায়।
অন্যদিকে আহত ইয়াকুব আলী পালের বড় ভাই শহীদ পাল অভিযোগ করেন, যৌনপল্লীতে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে পরিকল্পিতভাবে তার ভাইকে কুপিয়ে জখম করা হয়েছে এবং হামলাকারীদের দ্রুত গ্রেফতারের দাবি জানান তিনি।
তবে অভিযুক্তদের পক্ষ থেকে বক্তব্য জানতে চেষ্টা করা হলেও তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা যায়নি।
এ বিষয়ে গোয়ালন্দ ঘাট থানার ওসি মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, ঘটনায় দুটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ মেহেদী হাসান
কার্যালয়ঃ দেশ ভিলা, বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ মিয়া সড়ক, জিটি স্কুল সংলগ্ন, টুঙ্গিপাড়া, গোপালগঞ্জ।
মোবাইলঃ ০১৭১৮-৫৬৫১৫৬, ০১৯৯৫-৩৮৩২৫৫
ইমেইলঃ mehadi.news@gmail.com
Copyright © 2026 Nabadhara. All rights reserved.