নাজিম বকাউল, ফরিদপুর
ফরিদপুরে হামের উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে হামের উপসর্গে মৃত শিশুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২০ জনে। একই সঙ্গে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ৫৪ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হওয়ায় স্বাস্থ্য বিভাগ উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।
ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলার চণ্ডীপর্দী এলাকার বরকতের সাত মাস বয়সী ছেলে আয়ান গত ১ জুন হামের উপসর্গ নিয়ে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
অপরদিকে, ফরিদপুর সদর উপজেলার লক্ষীপুর এলাকার রাফসানের দুই বছর বয়সী কন্যা আদিবা হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায়।
জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ৫৪ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। বর্তমানে জেলার সরকারি হাসপাতালগুলোতে ১৯০ জন রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
মঙ্গলবার দুপুরে ফরিদপুরের সিভিল সার্জন ডা. মাহমুদুল হাসান বলেন, “ঈদের ছুটিতে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে অনেক মানুষ গ্রামের বাড়িতে আসায় হামের সংক্রমণ কিছুটা বেড়েছে। তবে আমরা আশাবাদী, আগামী এক থেকে দেড় সপ্তাহের মধ্যে পরিস্থিতির উন্নতি হবে এবং রোগীর সংখ্যা কমে আসবে।”
তিনি আরও বলেন, “শিশুর শরীরে হামের উপসর্গ দেখা দিলে দেরি না করে দ্রুত নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্র বা চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। প্রয়োজন হলে হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসা নিশ্চিত করতে হবে।”
সিভিল সার্জন জানান, হামের বিস্তার রোধে টিকাদান কার্যক্রমের পাশাপাশি জনসচেতনতা বৃদ্ধির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে শিশুদের সময়মতো হাম-রুবেলা (এমআর) টিকা গ্রহণ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।
স্বাস্থ্য বিভাগ অভিভাবকদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেছে, হামের উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা গ্রহণ এবং শিশুদের নির্ধারিত টিকা নিশ্চিত করা জরুরি।
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ মেহেদী হাসান
কার্যালয়ঃ দেশ ভিলা, বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ মিয়া সড়ক, জিটি স্কুল সংলগ্ন, টুঙ্গিপাড়া, গোপালগঞ্জ।
মোবাইলঃ ০১৭১৮-৫৬৫১৫৬, ০১৯৯৫-৩৮৩২৫৫
ইমেইলঃ mehadi.news@gmail.com
Copyright © 2026 Nabadhara. All rights reserved.