শামীম শেখ, গোয়ালন্দ (রাজবাড়ী) প্রতিনিধি
রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে পদ্মা নদীতে পানি বৃদ্ধি ও স্রোতের তীব্রতা বাড়তে শুরু করায় নদীভাঙন দেখা দিয়েছে। ভাঙনের কারণে দৌলতদিয়ার লঞ্চ ও ফেরিঘাট, ফসলি জমি এবং বসতবাড়ি হুমকির মুখে পড়েছে। ইতোমধ্যে বেশ কয়েকটি বসতভিটা ও কৃষিজমি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে।
স্থানীয় প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, দৌলতদিয়ার ৭ নম্বর ফেরিঘাট থেকে ছোটভাকলা ইউনিয়নের অন্তার মোড় পর্যন্ত প্রায় ৫ কিলোমিটার এলাকায় ভাঙনের আশঙ্কা রয়েছে। এর মধ্যে অন্তত ৭০০ থেকে ৮০০ মিটার এলাকাজুড়ে ইতোমধ্যে ভাঙন শুরু হয়েছে। দৌলতদিয়া ও দেবগ্রাম ইউনিয়নের বিভিন্ন অংশে ভাঙনের ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, পদ্মার পানি ও স্রোত আরও বৃদ্ধি পেলে ভাঙন ভয়াবহ রূপ নিতে পারে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের মাধ্যমে জিও ব্যাগ ফেলে জরুরি ভিত্তিতে প্রতিরক্ষা কাজ শুরুর প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি বিষয়টি সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকেও অবহিত করা হবে।
সোমবার (১ জুন) দুপুরে রাজবাড়ীর জেলা প্রশাসক আফরোজা পারভীন স্পিডবোটে করে গোয়ালন্দের ভাঙনকবলিত বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করেন। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাথী দাস, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. মুনতাসির হাসান খান, জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী সুব্রত কুমার, উপ-সহকারী প্রকৌশলী হাফিজুর রহমান এবং বিআইডব্লিউটিসির দৌলতদিয়া ঘাট ব্যবস্থাপক মো. সালাউদ্দিনসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা।
সরেজমিনে কথা হলে দৌলতদিয়া বেপারীপাড়া ও দেবগ্রাম মুন্সিবাজার এলাকার ছামাদ সরদার, বাবু সরদার, খবির সরদার, দবির শেখ, বালাম মুন্সি ও আজিদ মন্ডলসহ স্থানীয়রা জানান, পদ্মায় পানি বৃদ্ধি ও ঢেউয়ের কারণে ইতোমধ্যেই তাদের অনেক ফসলি জমি নদীতে বিলীন হয়েছে। বর্ষা মৌসুম পুরোদমে শুরু হলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তারা। দ্রুত ভাঙন প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান এলাকাবাসী।
বিআইডব্লিউটিসির দৌলতদিয়া ঘাট ব্যবস্থাপক মো. সালাউদ্দিন বলেন, “আমাদের ৩ ও ৪ নম্বর ফেরিঘাট এলাকা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। এছাড়া ৬ ও ৭ নম্বর ঘাট এলাকাতেও ভাঙনের আশঙ্কা রয়েছে। ৩ ও ৪ নম্বর ঘাট এলাকায় ইতোমধ্যে ভাঙন শুরু হয়েছে। পানি বাড়লে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে।”
রাজবাড়ীর জেলা প্রশাসক আফরোজা পারভীন বলেন, “দৌলতদিয়ার ফেরি ও লঞ্চঘাটসহ ভাঙনকবলিত বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করে ঝুঁকির বিষয়টি আমরা দেখেছি। ফেরিঘাট এলাকায় জরুরি ব্যবস্থা নিতে বিআইডব্লিউটিএকে এবং অন্যান্য এলাকায় দ্রুত কাজ শুরুর জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ডকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্যমতে গোয়ালন্দে পদ্মা নদীর বিভিন্ন স্থানে প্রায় ৭০০ থেকে ৮০০ মিটার এলাকাজুড়ে ভাঙন দেখা দিয়েছে। স্থানীয়ভাবে জরুরি প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে।
ভাঙনের কারণে স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে। দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে বর্ষার মৌসুমে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা সংশ্লিষ্টদের।
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ মেহেদী হাসান
কার্যালয়ঃ দেশ ভিলা, বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ মিয়া সড়ক, জিটি স্কুল সংলগ্ন, টুঙ্গিপাড়া, গোপালগঞ্জ।
মোবাইলঃ ০১৭১৮-৫৬৫১৫৬, ০১৯৯৫-৩৮৩২৫৫
ইমেইলঃ mehadi.news@gmail.com
Copyright © 2026 Nabadhara. All rights reserved.