শামীম শেখ, গোয়ালন্দ (রাজবাড়ী) প্রতিনিধি
রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ পৌরসভার আড়ৎপট্টি এলাকায় ভারী যানবাহনের চাপ বিবেচনায় না রেখেই রাস্তার সমতলে আরসিসি (RCC) ড্রেন নির্মাণের কাজ শুরু করায় স্থানীয় বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। সম্ভাব্য দুর্ঘটনা ও ড্রেনের স্থায়িত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তারা।
পৌরসভা সূত্রে জানা গেছে, স্থানীয় সরকার বিভাগের একটি প্রকল্পের আওতায় আড়ৎপট্টি এলাকায় ১৯০ মিটার দৈর্ঘ্য ও প্রায় ২ ফুট দেড় ইঞ্চি প্রশস্ত একটি ড্রেন নির্মাণ করা হচ্ছে। তবে এ ধরনের ড্রেনের ধারণক্ষমতা সর্বোচ্চ ১০ থেকে ১২ টন ওজন পর্যন্ত বলে সংশ্লিষ্ট প্রকৌশল বিভাগ জানিয়েছে। অথচ ওই এলাকায় প্রতিনিয়ত ২০ থেকে ২৫ টন ওজনের মালবাহী ট্রাক চলাচল করে।
আড়ৎপট্টি এলাকার বাসিন্দা অ্যাডভোকেট শফিকুল ইসলাম বলেন, “একটি ড্রেনের অভাবে আমরা দীর্ঘদিন ধরে ভোগান্তিতে ছিলাম। ড্রেন নির্মাণ হচ্ছে, এটি অবশ্যই ইতিবাচক। তবে বর্তমান নকশায় এটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। আমরা চাই ড্রেনটি আরও মজবুত ও নিরাপদভাবে নির্মাণ করা হোক।”
স্থানীয় আড়ৎদার রেজাউল করিম মোল্লা, সেলিম শেখ ও ফজলুর রহমানসহ কয়েকজন ব্যবসায়ী জানান, পেঁয়াজ, রসুন, পাট ও অন্যান্য পণ্যবোঝাই ভারী ট্রাক নিয়মিত এ সড়ক দিয়ে চলাচল করে। রাস্তার সমতলে ড্রেন নির্মাণ করা হলে ট্রাকের চাকা ড্রেনের ওপর উঠে দুর্ঘটনা ঘটার আশঙ্কা রয়েছে। তারা ড্রেনটিকে অধিক ওজন ধারণক্ষমতা সম্পন্ন করে নির্মাণের দাবি জানান।
গোয়ালন্দ পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী ফেরদৌস আলম খান বলেন, স্থানীয় সরকার বিভাগের ৩০ পৌরসভার পানি সরবরাহ ও অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় ড্রেনটি নির্মাণ করা হচ্ছে। প্রকল্প বাস্তবায়নের দায়িত্বে রয়েছে রংপুরের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স শাম্মি বিল্ডার্স। তিনি বলেন, “যথাযথ যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমেই প্রকল্পটি গ্রহণ করা হয়েছে। তারপরও স্থানীয়দের উদ্বেগের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হবে।”
তিনি আরও জানান, একই প্রকল্পের আওতায় গোয়ালন্দ পৌরসভায় মোট ২ হাজার ৮০৪ মিটার দৈর্ঘ্যের ৬টি ড্রেন এবং ৫ হাজার ৯৮৪ মিটার সড়কের ১০টি রাস্তার সংস্কার কাজ চলমান রয়েছে। এসব প্রকল্পে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ১০ কোটি ৯০ লাখ ২৭ হাজার টাকা।
এ বিষয়ে গোয়ালন্দ পৌরসভার প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাথী দাস বলেন, “আড়ৎপট্টি সড়কে ভারী যানবাহন চলাচল করে, এটি সত্য। স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের উদ্বেগ এবং সম্ভাব্য ঝুঁকির বিষয়টি উল্লেখ করে আমি প্রকল্প পরিচালকের কাছে চিঠি পাঠিয়েছি। আপাতত ড্রেনটির নির্মাণকাজ বন্ধ রাখা হয়েছে। প্রকল্প পরিচালকের কার্যালয়ের পরিদর্শন ও পরবর্তী নির্দেশনা অনুযায়ী অবশিষ্ট কাজ সম্পন্ন করা হবে।”
স্থানীয়দের আশা, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে নিরাপদ ও টেকসই অবকাঠামো নির্মাণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ মেহেদী হাসান
কার্যালয়ঃ দেশ ভিলা, বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ মিয়া সড়ক, জিটি স্কুল সংলগ্ন, টুঙ্গিপাড়া, গোপালগঞ্জ।
মোবাইলঃ ০১৭১৮-৫৬৫১৫৬, ০১৯৯৫-৩৮৩২৫৫
ইমেইলঃ mehadi.news@gmail.com
Copyright © 2026 Nabadhara. All rights reserved.