যশোর প্রতিনিধি
প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৮০ টন বর্জ্য উৎপন্ন হয় যশোর পৌর এলাকায়। এর বেশিরভাগই আসে গৃহস্থালি ও বাসাবাড়ি থেকে। তবে বর্জ্য অপসারণ ও ব্যবস্থাপনায় কার্যকর ও আধুনিক পরিকল্পনার অভাবে শহরের বিভিন্ন সড়ক, অলিগলি ও গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে দীর্ঘসময় ধরে জমে থাকছে আবর্জনা। ফলে পরিবেশ দূষণের পাশাপাশি স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়ছেন পৌর এলাকার প্রায় সাড়ে চার লাখ মানুষ।
বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে সরেজমিনে দেখা গেছে, শহরের বিভিন্ন স্থানে ডাস্টবিন উপচে ময়লা রাস্তায় ছড়িয়ে পড়ছে। কোথাও আবার ডাস্টবিনের অভাবে সড়কের পাশই পরিণত হয়েছে অস্থায়ী ময়লার ভাগাড়ে। বাতাসে ছড়িয়ে পড়ছে দুর্গন্ধ, বাড়ছে রোগজীবাণুর বিস্তার।
বিশ্ব পরিবেশ দিবসের এবারের প্রতিপাদ্য ‘প্রকৃতি থেকে অনুপ্রেরণায়, জলবায়ুর জন্য, আমাদের ভবিষ্যতের জন্য’ হলেও যশোর শহরের বাস্তব চিত্র সেই বার্তার সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলে মনে করছেন পরিবেশ সচেতন নাগরিকরা।
শহরের রেলরোড সিঅ্যান্ডবি মোড় এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, সকাল গড়িয়ে বেলা হলেও সড়কের পাশে পড়ে রয়েছে ময়লার স্তূপ। স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করেন, নির্ধারিত সময়ে বর্জ্য অপসারণ না হওয়ায় এ সমস্যা দীর্ঘদিনের।
পথচারী হাসিবুর রহমান বলেন, “ডাস্টবিনের পাশ দিয়ে চলাচল করাই কষ্টকর। পাশেই মসজিদ রয়েছে। নামাজ শেষে বের হলে দুর্গন্ধে দাঁড়ানো যায় না। নিয়ম অনুযায়ী ভোরে ময়লা পরিষ্কার হওয়ার কথা থাকলেও অনেক সময় দিনের পর দিন ময়লা পড়ে থাকে।”
আরেক বাসিন্দা বলেন, “সকাল ৯-১০টা পর্যন্ত ময়লা পড়ে থাকে। এতে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ বাড়ছে। শহরের বিভিন্ন ওয়ার্ডেই একই অবস্থা।”
স্থানীয়দের অভিযোগ, গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলো থেকে পুরোনো ডাস্টবিন সরিয়ে নেওয়ার পর সংকট আরও বেড়েছে। পর্যাপ্ত ডাস্টবিন না থাকায় অনেকেই বাধ্য হয়ে যত্রতত্র ময়লা ফেলছেন।
নাগরিক মোস্তফা মোল্লা বলেন, “আগে বিভিন্ন মোড়ে ডাস্টবিন ছিল। এখন সেগুলো নেই। পরিকল্পিতভাবে পর্যাপ্ত ডাস্টবিন স্থাপন করা হলে পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে।”
সচেতন মহলের মতে, উন্মুক্ত স্থানে ফেলে রাখা বর্জ্য কুকুর ও গবাদিপশু টেনে আশপাশে ছড়িয়ে দেয়। এতে পরিবেশ দূষণের পাশাপাশি জনস্বাস্থ্য হুমকির মুখে পড়ে। তারা আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন।
অন্যদিকে, শহরের পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে নিয়োজিত কর্মীরাও রয়েছেন নানা সংকটে। তাদের অভিযোগ, পর্যাপ্ত সুরক্ষা সরঞ্জাম ছাড়াই বছরের পর বছর ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশে কাজ করতে হচ্ছে।
এক পরিচ্ছন্নতাকর্মী বলেন, “আমাদের গামবুট, গ্লাভস ও মাস্ক প্রয়োজন। কিন্তু অধিকাংশ সময় এগুলো দেওয়া হয় না। ফলে খালি হাতেই ময়লা পরিষ্কার করতে হয়।”
দীর্ঘদিন ধরে কাজ করা আরেক কর্মী জানান, “বৃষ্টি, ঝড়, শীত কিংবা তীব্র গরম—সব পরিস্থিতিতেই কাজ করতে হয়। কিন্তু নিরাপত্তা ও সুযোগ-সুবিধা খুবই সীমিত।”
পরিবেশবিদদের মতে, জনসচেতনতা বৃদ্ধি, পর্যাপ্ত ডাস্টবিন স্থাপন, সময়মতো বর্জ্য অপসারণ এবং পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা গেলে যশোরের বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব হবে। বিশ্ব পরিবেশ দিবসে নগর ব্যবস্থাপনার এই চ্যালেঞ্জ নতুন করে সামনে এসেছে বলে তারা মনে করছেন।
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ মেহেদী হাসান
কার্যালয়ঃ দেশ ভিলা, বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ মিয়া সড়ক, জিটি স্কুল সংলগ্ন, টুঙ্গিপাড়া, গোপালগঞ্জ।
মোবাইলঃ ০১৭১৮-৫৬৫১৫৬, ০১৯৯৫-৩৮৩২৫৫
ইমেইলঃ mehadi.news@gmail.com
Copyright © 2026 Nabadhara. All rights reserved.