নোয়াখালী প্রতিনিধি
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সিনিয়র যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক ও নোয়াখালী-৬ (হাতিয়া) আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল হান্নান মাসউদের বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগের এক নেতাকে বিমানবন্দর পর্যন্ত পৌঁছে দিতে ৩ কোটি টাকা দাবির অভিযোগ প্রকাশ্যে আসার পর এক ছাত্রদল নেতার বাড়িতে হামলা-ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে।
ভুক্তভোগী আব্দুল গাফফার (২৯) জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য এবং হাতিয়া উপজেলার বুড়িরচর ইউনিয়নের পশ্চিম বড় দেইল গ্রামের বাসিন্দা। তিনি দাবি করেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় হান্নান মাসউদের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে কাজ করেছেন এবং তার রাজনৈতিক কার্যক্রমে সম্পৃক্ত ছিলেন।
অভিযোগ অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার (৪ জুন) রাত সাড়ে ৮টার দিকে হাতিয়ার বুড়িরচর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের পশ্চিম বড় দেইল গ্রামে গাফফারের পৈতৃক বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় প্রতিবাদ জানিয়ে স্থানীয় ছাত্রদল নেতাকর্মীরা সাগরিয়া বাজারে বিক্ষোভ মিছিল করেন এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
গাফফার অভিযোগ করেন, ৫ আগস্টের পর নোয়াখালী-৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ একরামুল করিম চৌধুরীকে বিমানবন্দর পর্যন্ত পৌঁছে দেওয়ার জন্য হান্নান মাসউদ ৩ কোটি টাকা দাবি করেছিলেন। বিষয়টি তিনি সম্প্রতি বিএনপি নেতা মুহাম্মদ রাশেদ খাঁনকে জানান। পরে রাশেদ খাঁন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ বিষয়ে একটি পোস্ট দিলে তিনি সেটি শেয়ার করেন।
তার দাবি, এরপর থেকেই তিনি হুমকি ও কটূক্তির শিকার হন। হামলার ঘটনায় হান্নান মাসউদের অনুসারীদের জড়িত বলে অভিযোগ করেন তিনি। হামলাকারীরা বাড়ির জানালা ও প্রধান ফটকে ভাঙচুর চালিয়েছে বলেও জানান গাফফার।
হাতিয়া উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক রিয়াজ মাহমুদ বলেন, “গাফফারকে কয়েকদিন ধরে প্রকাশ্যে হুমকি দেওয়া হচ্ছিল। যারা হুমকি দিয়েছে, তারাই হামলার সঙ্গে জড়িত বলে আমরা মনে করি।”
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন হাতিয়া উপজেলা এনসিপির আহ্বায়ক সামছুল কিবরিয়া। তিনি বলেন, “ঘটনার সঙ্গে এনসিপির কোনো সম্পৃক্ততা নেই। এটি উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এনসিপির ওপর দোষ চাপানোর চেষ্টা হতে পারে।”
সংসদ সদস্য আব্দুল হান্নান মাসউদও অভিযোগ নাকচ করে বলেন, “আমার নিজের বাড়িতেই হামলার ঘটনা ঘটে। আমি অন্যের বাড়িতে হামলা করব কেন? এটি সম্পূর্ণ সাজানো একটি নাটক, আমাকে রাজনৈতিকভাবে হেয় করার চেষ্টা করা হচ্ছে।”
হাতিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কবির হোসেন জানান, এ ঘটনায় এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উল্লেখ্য, উত্থাপিত অভিযোগগুলো সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর বক্তব্যের ভিত্তিতে প্রকাশিত হয়েছে। অভিযোগের বিষয়ে এখনো স্বাধীনভাবে কোনো সরকারি তদন্ত বা বিচারিক সিদ্ধান্ত পাওয়া যায়নি।
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ মেহেদী হাসান
কার্যালয়ঃ দেশ ভিলা, বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ মিয়া সড়ক, জিটি স্কুল সংলগ্ন, টুঙ্গিপাড়া, গোপালগঞ্জ।
মোবাইলঃ ০১৭১৮-৫৬৫১৫৬, ০১৯৯৫-৩৮৩২৫৫
ইমেইলঃ mehadi.news@gmail.com
Copyright © 2026 Nabadhara. All rights reserved.