যশোর প্রতিনিধি
যশোর সদর উপজেলার ১৩ নম্বর কচুয়া ইউনিয়নের মুনসেফপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পেছনে সরকারি রাস্তার মাটি কেটে বিক্রির অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় একটি প্রভাবশালী চক্রের বিরুদ্ধে। সম্প্রতি সংস্কার করা মথুরাপুর-রূপদিয়া সড়কের বাঁধের মাটি কেটে বিক্রির ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
সরেজমিনে জানা যায়, মুনসেফপুর গ্রামের আব্দুস সামাদের তিন ছেলে—আবু মুছা, জামাল ও আমির আলী জনসাধারণের চলাচলের গুরুত্বপূর্ণ ওই সড়কের পাশের মাটি কেটে নিয়ে যাচ্ছেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, বারবার নিষেধাজ্ঞা ও আপত্তি সত্ত্বেও তারা সরকারি রাস্তার মাটি কেটে মথুরাপুর গ্রামের মৃত সিদ্দিক আলীর ছেলে ভুট্টোর কাছে বিক্রি করছেন। পরে সেই মাটি দিয়ে ভুট্টো তার ব্যক্তিগত নিচু জমি ভরাট করছেন।
অভিযোগের বিষয়ে প্রধান অভিযুক্ত আবু মুছার মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তার স্ত্রী ফোন রিসিভ করেন। তিনি মাটি বিক্রির বিষয়ে কোনো মন্তব্য না করলেও দাবি করেন, রাস্তার পাশের জমিটি তাদের এবং সেখানেই তার স্বামী কাজ করছেন। একপর্যায়ে তিনি ফোন সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।
এ বিষয়ে কচুয়া ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য ও প্যানেল চেয়ারম্যান তরিকুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, “আমি বিষয়টি শুনেছি। তবে ব্যস্ততার কারণে এখনো ঘটনাস্থলে যেতে পারিনি। সরকারি রাস্তার মাটি কাটা অত্যন্ত অন্যায় কাজ। বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
কচুয়া ইউনিয়ন ভূমি অফিসের নায়েব ফারুক হোসেন বলেন, “বিষয়টি আমার জানা ছিল না। সরকারি রাস্তা বা বাঁধ কেটে মাটি নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। আমি দ্রুত খোঁজখবর নিয়ে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করব।”
এদিকে, সরকারি রাস্তা ক্ষতিগ্রস্ত করে ব্যক্তিগত স্বার্থে মাটি বিক্রির ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। তারা জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত প্রশাসনিক ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
মাটি কেনার বিষয়ে ভুট্টো বলেন, “রাস্তার ধারঘেঁষা জমিটি মূলত মুছা, আমির ও জামালের। ওরাই মাটি কেটেছে। আমি তাদের কিছু টাকা দিয়ে মাটি কিনে আমার জমি ভরাট করেছি।” তিনি আরও বলেন, “যদি কোনো আইনি জটিলতা সৃষ্টি হয়, তাহলে আমি লোক দিয়ে আবার মাটি আগের জায়গায় ফিরিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করব।”
স্থানীয়দের আশঙ্কা, এভাবে রাস্তার পাশের মাটি কাটা অব্যাহত থাকলে বর্ষা মৌসুমে সড়কটি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি জনসাধারণের চলাচলেও ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ মেহেদী হাসান
কার্যালয়ঃ দেশ ভিলা, বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ মিয়া সড়ক, জিটি স্কুল সংলগ্ন, টুঙ্গিপাড়া, গোপালগঞ্জ।
মোবাইলঃ ০১৭১৮-৫৬৫১৫৬, ০১৯৯৫-৩৮৩২৫৫
ইমেইলঃ mehadi.news@gmail.com
Copyright © 2026 Nabadhara. All rights reserved.