হাতিয়া (নোয়াখালী) প্রতিনিধি
নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলায় মাত্র দুইজন শিক্ষক কর্মরত থাকা একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে একজন শিক্ষককে অন্য বিদ্যালয়ে সংযুক্তি দেওয়ার ঘটনায় অনিয়ম ও স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, যেখানে একটি বিদ্যালয়ে শিক্ষক সংকট তীব্র, সেখানে একজন শিক্ষককে সংযুক্তির মাধ্যমে সরিয়ে নেওয়ায় ওই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি কার্যত পাঠদান কার্যক্রমে অচল হয়ে পড়েছে।
জানা গেছে, ২০২৫ সালের ২৪ নভেম্বর নোয়াখালী জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের ৩৫৪৩(৬) নম্বর স্মারকে লম্বরিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মিরাজ উদ্দিনকে তার বাড়ির নিকটবর্তী মদনখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সংযুক্তির আদেশ দেওয়া হয়। ওই সময়ে লম্বরিয়া বিদ্যালয়ে মাত্র দুইজন শিক্ষক কর্মরত ছিলেন। পরে একজন শিক্ষক সংযুক্তি পাওয়ায় সেখানে কার্যত একজন শিক্ষকই থেকে যান।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, একজন শিক্ষক দিয়ে প্রাক-প্রাথমিক থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত ছয়টি শ্রেণির পাঠদান পরিচালনা করা অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছে। এতে নিয়মিত শ্রেণি কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। শিক্ষক অনুপস্থিত থাকলে বিদ্যালয় কার্যত বন্ধ রাখতে হচ্ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।
সংযুক্তির প্রস্তাবে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আ. জব্বার প্রধান শিক্ষকের অবসরজনিত কারণ দেখিয়ে বিদ্যালয়ে একজন শিক্ষক কর্মরত থাকার তথ্য উল্লেখ করেন বলে অভিযোগ উঠেছে। তবে স্থানীয়দের দাবি, বিদ্যালয়টিতে দীর্ঘদিন ধরেই শিক্ষক সংকট বিদ্যমান ছিল।
অভিযুক্ত সহকারী শিক্ষক মিরাজ উদ্দিন বলেন, “আমার ব্যক্তিগত সমস্যার কারণে অফিসের সঙ্গে যোগাযোগ করে ডেপুটেশন নিয়েছি।”
এদিকে উপজেলার একাধিক শিক্ষক নাম প্রকাশ না করার শর্তে অভিযোগ করেন, কিছু কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্টদের যোগসাজশে নিয়মবহির্ভূতভাবে সংযুক্তির সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে। মিথ্যা তথ্য উপস্থাপন করে প্রস্তাব পাঠানো হয় বলেও তারা দাবি করেন।
এছাড়া লম্বরিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক সংকট নিরসনে পরবর্তী সময়ে পশ্চিম চর আমানুল্লাহ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে একজন শিক্ষক সংযুক্তির প্রস্তাব পাঠানো হলেও তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠায় অনুমোদন দেওয়া হয়নি বলে জানা গেছে।
এর আগে ২০২৪ সালে মধ্য চর আমানুল্লাহ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এক শিক্ষক সংযুক্তির ক্ষেত্রেও তথ্য গোপন ও শূন্যপদ দেখিয়ে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছিল। পরে ওই আদেশ বাতিল হলেও সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় সমালোচনা রয়েছে।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আ. জব্বার বলেন, “সংযুক্তির প্রক্রিয়া বিভিন্নভাবে হয়ে থাকে।”
নোয়াখালী জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (চলতি দায়িত্ব) ইসরাত নাসিমা হাবীব বলেন, “বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে। সংযুক্তির সুপারিশ ও আদেশে কোথায় ভুল হয়েছে তা তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ মেহেদী হাসান
কার্যালয়ঃ দেশ ভিলা, বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ মিয়া সড়ক, জিটি স্কুল সংলগ্ন, টুঙ্গিপাড়া, গোপালগঞ্জ।
মোবাইলঃ ০১৭১৮-৫৬৫১৫৬, ০১৯৯৫-৩৮৩২৫৫
ইমেইলঃ mehadi.news@gmail.com
Copyright © 2026 Nabadhara. All rights reserved.