যশোর প্রতিনিধি
যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের প্রধান ফটকের আশপাশে মাত্র ৫০০ মিটারের মধ্যে গড়ে উঠেছে ২২টি বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার। এর মধ্যে অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের হালনাগাদ লাইসেন্স নেই বলে জানিয়েছে সিভিল সার্জন কার্যালয়ের সংশ্লিষ্ট সূত্র।
সরেজমিনে দেখা যায়, শহরের ঘোপ নওয়াপাড়া সড়কে সরকারি হাসপাতালের সামনেই একই ভবনের বিভিন্ন তলায় একাধিক স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান পরিচালিত হচ্ছে। ইউনিক হসপিটাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার, কমটেক ডায়াগনস্টিক সেন্টার, অর্থোপেডিক ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার, পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও ল্যাবজোন স্পেশালাইজড হসপিটালসহ বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান একই এলাকায় কার্যক্রম চালাচ্ছে।
সিভিল সার্জন অফিস সূত্রে জানা গেছে, ২২টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ২০টিরই হালনাগাদ লাইসেন্স নেই। অভিযোগ রয়েছে, প্রয়োজনীয় মানদণ্ড ও বিধিমালা অনুসরণ না করেই এসব প্রতিষ্ঠান পরিচালিত হচ্ছে। একই ভবনে একাধিক হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার থাকায় রোগী ও স্বজনদের বিভ্রান্তির পাশাপাশি নানা ধরনের ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে।
সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের লক্ষ্য করেই এসব বেসরকারি স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা হয়েছে। দালালচক্রের মাধ্যমে রোগীদের বিভিন্ন ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে নিয়ে গিয়ে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের ঘটনাও ঘটছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
গত মাসে ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান চালিয়ে ডিএনএ ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও পিয়ারলেস ডায়াগনস্টিক সেন্টার সিলগালা করেছিল। তবে দুই সপ্তাহ পর প্রতিষ্ঠান দুটি আবার চালু হয়েছে বলে জানা গেছে।
এদিকে কমটেক ডায়াগনস্টিক সেন্টারের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা পরিবেশ, দক্ষ জনবল ও আধুনিক যন্ত্রপাতির অভাবের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, দালালনির্ভর কার্যক্রমের মাধ্যমে রোগীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করা হচ্ছে।
ইউনিক হসপিটাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারের বিরুদ্ধেও বিভিন্ন অনিয়ম ও অপচিকিৎসার অভিযোগ রয়েছে। অতীতে চিকিৎসা সংক্রান্ত অভিযোগকে কেন্দ্র করে প্রতিষ্ঠানটিতে ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, সরকারি হাসপাতালের কিছু চিকিৎসক সরাসরি বা পরিবারের সদস্যদের নামে এসব প্রতিষ্ঠান পরিচালনার সঙ্গে জড়িত। যদিও এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
যশোরের সিভিল সার্জন ডা. মাসুদ রানা বলেন, “সরকারি হাসপাতালের সামনে একই ভবনে একাধিক হাসপাতাল ও ক্লিনিক পরিচালনার বিষয়টি আমাদের নজরে রয়েছে। অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। ইতোমধ্যে কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে এবং অন্যগুলোর কার্যক্রমও পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।”
স্বাস্থ্যসেবা খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে নিয়মিত তদারকি ও কঠোর পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন সচেতন নাগরিকরা।
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ মেহেদী হাসান
কার্যালয়ঃ দেশ ভিলা, বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ মিয়া সড়ক, জিটি স্কুল সংলগ্ন, টুঙ্গিপাড়া, গোপালগঞ্জ।
মোবাইলঃ ০১৭১৮-৫৬৫১৫৬, ০১৯৯৫-৩৮৩২৫৫
ইমেইলঃ mehadi.news@gmail.com
Copyright © 2026 Nabadhara. All rights reserved.