ঝিনাইদহ প্রতিনিধি
ঝিনাইদহের শৈলকুপায় একটি বেসরকারি হাসপাতালে পিত্তথলির পাথর অপারেশনের সময় ভুল চিকিৎসায় রোগীর নাড়ি ও রক্তনালী কেটে ফেলার অভিযোগ উঠেছে দুই চিকিৎসকের বিরুদ্ধে। ঘটনায় গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়া এক গৃহবধূকে বাঁচাতে গিয়ে পরিবারের প্রায় ৫ লাখ টাকা খরচ ও শেষ সম্বল জমি বিক্রি করতে হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
মঙ্গলবার (১৬ জুন) ঝিনাইদহ প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী রোগীর বাবা মো. মাজেদ হোসেন। তিনি অভিযুক্ত চিকিৎসকদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানান।
অভিযুক্ত চিকিৎসকরা হলেন শৈলকুপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. আব্দুল্লাহ আল মামুন এবং সহযোগী চিকিৎসক ডা. নাসির উদ্দিন।
লিখিত বক্তব্যে মাজেদ হোসেন জানান, গত ১৮ মে তার মেয়ে সুস্মিতা ওরফে মিতা খাতুন (২৫) পেটে তীব্র ব্যথা নিয়ে হাসপাতালে গেলে তাকে পিত্তথলিতে পাথরের কথা জানানো হয় এবং দ্রুত অপারেশনের পরামর্শ দেওয়া হয়। পরে তাকে একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করে ২০ হাজার টাকার চুক্তিতে অপারেশন করা হয়।
অভিযোগ অনুযায়ী, অপারেশনের সময় চিকিৎসকদের অবহেলায় রোগীর নাড়ি ও রক্তনালী কেটে যায়, ফলে প্রচণ্ড রক্তক্ষরণ শুরু হয়। পরবর্তীতে পাঁচ দিন ওই হাসপাতালে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হলেও অবস্থার অবনতি ঘটে।
পরবর্তীতে ২৩ মে রোগীকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলেও সিট না পাওয়ায় পরে একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে দীর্ঘ চিকিৎসা ও পুনরায় অপারেশনের পর রোগীর জীবন রক্ষা পেলেও বিপুল অর্থ ব্যয় হয় বলে দাবি পরিবারের।
ভুক্তভোগীর বাবা বলেন, “মেয়েকে বাঁচাতে গিয়ে আমার শেষ সম্বল জমিটাও বিক্রি করতে হয়েছে। আমি এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই।”
অন্যদিকে অভিযুক্ত ডা. আব্দুল্লাহ আল মামুন দাবি করেন, তিনি অপারেশন করেননি, শুধু অ্যানেস্থেশিয়ার দায়িত্বে ছিলেন। মূল অপারেশন করেছেন ডা. নাসির উদ্দিন।
এ ঘটনায় সঠিক তদন্ত ও জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী পরিবার।
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ মেহেদী হাসান
কার্যালয়ঃ দেশ ভিলা, বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ মিয়া সড়ক, জিটি স্কুল সংলগ্ন, টুঙ্গিপাড়া, গোপালগঞ্জ।
মোবাইলঃ ০১৭১৮-৫৬৫১৫৬, ০১৯৯৫-৩৮৩২৫৫
ইমেইলঃ mehadi.news@gmail.com
Copyright © 2026 Nabadhara. All rights reserved.