নওগাঁ প্রতিনিধি
নওগাঁর মান্দা উপজেলার পরানপুর উচ্চবিদ্যালয়ের গণিত বিষয়ের সহকারী শিক্ষক জিয়াউল হক জিয়ার বিরুদ্ধে একই বিদ্যালয়ের এক নারী শিক্ষিকাকে দীর্ঘদিন ধরে যৌন হেনস্তা, কুপ্রস্তাব ও হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী শিক্ষিকা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও মান্দা থানায় পৃথক লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, প্রায় এক বছর ধরে অভিযুক্ত জিয়াউল হক জিয়া বিভিন্ন অজুহাতে ওই নারী শিক্ষিকাকে কুপ্রস্তাব দিয়ে আসছিলেন। বিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে তিনি নিজের আচরণের জন্য ক্ষমা চাইলেও পরবর্তীতে আবারও একই ধরনের হেনস্তা চালিয়ে যান।
গত ১০ জুন নবম শ্রেণির ক্লাসে যাওয়ার সময় বিদ্যালয়ের একাডেমিক ভবনের তৃতীয় তলার বারান্দায় শিক্ষার্থীদের সামনে অভিযুক্ত শিক্ষক তার পথরোধ করে যৌন হেনস্তা করেন। খবর পেয়ে প্রধান শিক্ষক ঘটনাস্থলে গিয়ে ভুক্তভোগীকে উদ্ধার করেন। এ ঘটনার পর ভুক্তভোগী ইউএনওর কাছে লিখিত অভিযোগ দেন।
ঘটনার জের ধরে গতকাল বুধবার বিদ্যালয়ের সামনে অভিযুক্ত শিক্ষক ওই নারী শিক্ষিকাকে জুতাপেটা করার চেষ্টা করেন। অন্য শিক্ষকদের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। এরপর ভুক্তভোগী মান্দা থানায় আরেকটি অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগ দায়েরের পর থেকে তাকে মোবাইল ফোনে হত্যার হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেছেন তিনি।
ঘটনাটি এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে এলাকাবাসী সমবেত হয়ে অভিযুক্ত শিক্ষকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছালে অভিযুক্ত শিক্ষক বিদ্যালয় থেকে পালিয়ে যান।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল ওয়াহেদ বলেন, “অভিযোগের বিষয়ে প্রতিষ্ঠান থেকে সমাধানের চেষ্টা করা হয়েছিল। কিন্তু তিনি (জিয়াউল হক) তাতে সাড়া না দেওয়ায় ভুক্তভোগী প্রশাসনের কাছে অভিযোগ করেন।”
মান্দা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আখতার জাহান সাথী অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, “ঘটনাটি তদন্তের জন্য উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজারকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
মান্দা থানার অফিসার ইনচার্জ খোরশেদ আলম বলেন, “এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
অভিযুক্ত শিক্ষক জিয়াউল হক জিয়ার মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তা বন্ধ পাওয়া যায়।
এ ধরনের ঘটনায় বিদ্যালয়ের শিক্ষা পরিবেশ ও নারী শিক্ষকদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে এলাকায়।
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ মেহেদী হাসান
কার্যালয়ঃ দেশ ভিলা, বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ মিয়া সড়ক, জিটি স্কুল সংলগ্ন, টুঙ্গিপাড়া, গোপালগঞ্জ।
মোবাইলঃ ০১৭১৮-৫৬৫১৫৬, ০১৯৯৫-৩৮৩২৫৫
ইমেইলঃ mehadi.news@gmail.com
Copyright © 2026 Nabadhara. All rights reserved.