রাসেল আহমেদ, খুলনা প্রতিনিধি
খুলনার তেরখাদা উপজেলায় তীব্র তাপদাহের মধ্যেই পল্লী বিদ্যুতের দীর্ঘসময়ব্যাপী ও অনিয়মিত লোডশেডিংয়ে জনজীবন চরম দুর্ভোগের মুখে পড়েছে। দিনে-রাতে দফায় দফায় বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন থাকায় ২৪ ঘণ্টার মধ্যে বেশিরভাগ সময়ই বিদ্যুৎহীন অবস্থায় কাটাতে হচ্ছে এলাকাবাসীকে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, কোনো পূর্বঘোষণা বা নির্দিষ্ট সময়সূচি ছাড়াই হঠাৎ করেই বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। কখনো দিনের বেলা, আবার কখনো গভীর রাত পর্যন্ত বিদ্যুৎ না থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। বিশেষ করে তীব্র গরমে শিশু, বয়স্ক ও অসুস্থ ব্যক্তিদের দুর্ভোগ বেড়েছে কয়েকগুণ।
লোডশেডিংয়ের কারণে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে শিক্ষার্থীরা। রাতে পড়াশোনা করতে মোমবাতি ও চার্জার লাইটের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে তাদের। একই সঙ্গে হাসপাতালের রোগী ও ছোট শিশুদের স্বাস্থ্যঝুঁকিও বাড়ছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
তেরখাদা উপজেলায় পল্লী বিদ্যুতের প্রায় ২৫ হাজার গ্রাহক রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যুৎ সরবরাহের অনিয়ম নিয়ে গ্রাহকদের মধ্যে ক্ষোভ বাড়লেও পরিস্থিতির দৃশ্যমান কোনো উন্নতি হয়নি।
ভুক্তভোগী গ্রাহক মোহাম্মদ ফয়সাল বলেন, “২৪ ঘণ্টার মধ্যে যদি ১২-১৩ ঘণ্টাই বিদ্যুৎ না থাকে, তাহলে এটাকে লোডশেডিং বলা যায় না। আমরা যেন এক ধরনের লুকোচুরি বিদ্যুৎ ব্যবস্থার মধ্যে বাস করছি।”
জয়সেনা বাজারের ব্যবসায়ী রবিউল ইসলাম বলেন, “বিল দিতে একদিন দেরি হলেই জরিমানা করা হয়। কিন্তু দিনের পর দিন বিদ্যুৎ না থাকলে তার জবাবদিহি কে করবে? এই গরমে শিশুদের ঘুম নেই, তারা অসুস্থ হয়ে পড়ছে।”
উপজেলার কাচিকাটা এলাকার বাসিন্দা হুমায়ূন কবির বলেন, “দিন-রাত শুধু লোডশেডিং। পল্লী বিদ্যুৎ অফিসে ফোন দিলেও কেউ রিসিভ করে না। শিক্ষার্থী, চাকরিজীবীসহ সব শ্রেণি-পেশার মানুষ চরম ভোগান্তিতে রয়েছে।”
স্থানীয়দের দাবি, উপজেলা সদরের তুলনায় গ্রামাঞ্চলে বিদ্যুৎ পরিস্থিতি আরও নাজুক। অনেক এলাকায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকে না বলে অভিযোগ করেছেন তারা।
এ বিষয়ে তেরখাদা পল্লী বিদ্যুৎ সাব-জোনাল অফিসের সহকারী মহাব্যবস্থাপক (ওএন্ডএম) মো. তৌফিক ওমরের ব্যবহৃত মোবাইল নম্বরে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
ভুক্তভোগী এলাকাবাসী দ্রুত লোডশেডিং কমিয়ে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তীব্র তাপদাহের মধ্যে বিদ্যুৎ সংকট নিরসনে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া না হলে জনদুর্ভোগ আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ মেহেদী হাসান
কার্যালয়ঃ দেশ ভিলা, বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ মিয়া সড়ক, জিটি স্কুল সংলগ্ন, টুঙ্গিপাড়া, গোপালগঞ্জ।
মোবাইলঃ ০১৭১৮-৫৬৫১৫৬, ০১৯৯৫-৩৮৩২৫৫
ইমেইলঃ mehadi.news@gmail.com
Copyright © 2026 Nabadhara. All rights reserved.