জয়পুরহাট প্রতিনিধি
জয়পুরহাটের কালাই উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজারে ধান বিক্রির সময় প্রতি মণে অতিরিক্ত ২ থেকে ৩ কেজি ধান নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে আড়তদারদের বিরুদ্ধে। ‘ধলতা’ নামে পরিচিত এ অতিরিক্ত ওজনের কারণে কৃষকরা আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন বলে অভিযোগ করেছেন।
সরেজমিনে উপজেলার পাঁচশিরা বাজার, মাত্রাই বাজার, পুনট বাজার, মোলামগাড়ী হাট ও আহম্মেদাবাদ বাজার ঘুরে দেখা যায়, ধান বিক্রির সময় আড়তদাররা কাঁচা ধান শুকালে ওজনে কমে যাবে—এ অজুহাতে প্রতি মণে ২ থেকে ৩ কেজি অতিরিক্ত ধান নিচ্ছেন। ফলে ৪০ কেজিতে এক মণ হওয়ার নিয়ম থাকলেও কৃষকদের ৪২ থেকে ৪৩ কেজি পর্যন্ত দিতে হচ্ছে।
কৃষকদের অভিযোগ, দুই মণের একটি বস্তায় ৫ থেকে ৬ কেজি পর্যন্ত অতিরিক্ত ধান রেখে দেওয়া হচ্ছে। কেউ এ বিষয়ে আপত্তি করলে অনেক ক্ষেত্রে বাকবিতণ্ডা এমনকি মারামারির ঘটনাও ঘটছে। এতে কৃষকরা একপ্রকার বাধ্য হয়েই অতিরিক্ত ধান দিতে বাধ্য হচ্ছেন।
হাতিয়র গ্রামের কৃষক রাশিদুল আলম বলেন, “রোদ-বৃষ্টি উপেক্ষা করে অনেক কষ্টে ফসল উৎপাদন করি। কিন্তু বাজারে এসে ন্যায্য মূল্য তো পাই-ই না, উল্টো অতিরিক্ত ধান দিতে হয়। আজ ২৫ বস্তা ধান বিক্রি করতে এসেছি। প্রতি বস্তায় ৮৫ কেজি ধান এনেছি, কিন্তু ৮৮ কেজির কম নিতে চায় না। এতে ৫০ মণ ধানের ওপর প্রায় ২০০ কেজি ধান বেশি দিতে হয়েছে।”
আরেক কৃষক কামিরুল ইসলাম বলেন, “এক মৌসুমে ধলতার নামে ১০-১২ মণ ধান চলে যায়। প্রতিবাদ করলে বলা হয় অন্য হাটে যান। কিন্তু সব হাটেই একই অবস্থা।”
কৃষকদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে একটি সিন্ডিকেটের মাধ্যমে এ অনিয়ম চললেও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। আড়তদাররা কৃষকদের কাছ থেকে যে দামে ধান কেনেন, একই দামে মহাজনদের কাছে বিক্রি করেন। ফলে অতিরিক্ত নেওয়া ধানই তাদের মূল লাভে পরিণত হয়।
তবে আড়তদারদের দাবি ভিন্ন। আড়তদার এনামুল হক বলেন, “নতুন ধানে আর্দ্রতা বেশি থাকে। শুকানোর পর প্রতি বস্তায় ২-৩ কেজি ওজন কমে যায়। তাই আগে থেকেই কিছু অতিরিক্ত নেওয়া হয়। এটি নতুন কোনো নিয়ম নয়, দীর্ঘদিন ধরেই প্রচলিত রয়েছে।”
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. হারুনুর রশিদ বলেন, “সরকার কৃষি উৎপাদন বাড়াতে নানা সহায়তা দিচ্ছে। কিন্তু বাজারে ওজন কারচুপি ও ‘ধলতা’র নামে অতিরিক্ত ধান নেওয়া হলে কৃষকরা ন্যায্য মূল্য থেকে বঞ্চিত হবেন। এ বিষয়ে বাজার মনিটরিং ও সঠিক ওজন নিশ্চিত করা জরুরি।”
কালাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শামীম আরা বলেন, “নির্ধারিত ওজনের বাইরে পণ্য নেওয়া সম্পূর্ণ অবৈধ এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি বাজার মনিটরিং জোরদার করা হবে।”
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ মেহেদী হাসান
কার্যালয়ঃ দেশ ভিলা, বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ মিয়া সড়ক, জিটি স্কুল সংলগ্ন, টুঙ্গিপাড়া, গোপালগঞ্জ।
মোবাইলঃ ০১৭১৮-৫৬৫১৫৬, ০১৯৯৫-৩৮৩২৫৫
ইমেইলঃ mehadi.news@gmail.com
Copyright © 2026 Nabadhara. All rights reserved.