আনিসুর রহমান সুমন, শ্যামনগর (সাতক্ষীরা) প্রতিনিধি
সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার দাতিনাখালি নদীর ভাঙনকবলিত চরে দীর্ঘদিন ধরে মরা কাঁকড়া ফেলার কারণে তীব্র দুর্গন্ধে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। দ্রুত এসব বর্জ্য অপসারণ না করা হলে এলাকায় স্বাস্থ্যঝুঁকি ও মহামারি ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা করছেন তারা। এ বিষয়ে বন বিভাগ ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগীরা।
সরেজমিনে দেখা গেছে, উপজেলার ৯ নম্বর বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের দাতিনাখালি গ্রামের নদীভাঙন এলাকার পাড়জুড়ে বিভিন্ন কাঁকড়া হ্যাচারির মরা কাঁকড়া ফেলে রাখা হয়েছে। এসব বর্জ্য পচে দুর্গন্ধ ছড়ানোর পাশাপাশি পোকামাকড়েরও উপদ্রব বেড়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা খালেকুল গাজী জানান, হ্যাচারি মালিকরা নিয়মিত মরা কাঁকড়া নদীর পাড়ে ফেলায় এলাকায় অসহনীয় দুর্গন্ধের সৃষ্টি হয়েছে। ওয়াপদা বাঁধের ওপর দিয়ে চলাচল করতেও নাকে কাপড় দিতে হয়। দুর্গন্ধের কারণে স্বাভাবিক জীবনযাপন ও খাবার গ্রহণও কষ্টকর হয়ে পড়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, এ বিষয়ে প্রতিবাদ করলে কিছু হ্যাচারি মালিক উল্টো অন্যত্র চলে যাওয়ার পরামর্শ দেন।
আরেক বাসিন্দা আবুল হোসেন বলেন, বারবার নিষেধ করার পরও মরা কাঁকড়া ফেলা বন্ধ হচ্ছে না। নদীতে যেকোনো ধরনের বর্জ্য ফেলা নিষিদ্ধ হলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কার্যকর ব্যবস্থা নিচ্ছে না বলে অভিযোগ করেন তিনি।
পরিবেশকর্মী শাহিন আলম বলেন, মরা কাঁকড়া নির্দিষ্ট নিয়মে মাটিতে পুঁতে ফেলতে হয়। কিন্তু তা না করে উন্মুক্ত স্থানে ফেলে রাখায় পরিবেশ দূষণ ও জনস্বাস্থ্যের জন্য হুমকি তৈরি হচ্ছে। বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।
অভিযোগের বিষয়ে দাতিনাখালির হ্যাচারি মালিক জুয়েলের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, তার হ্যাচারির কোনো মরা কাঁকড়া নদীর পাড়ে ফেলা হয় না। বরং নদীর পাড়ে মরা কাঁকড়া না ফেলার জন্য তিনি সাইনবোর্ড টানিয়েছিলেন, যা দুষ্কৃতকারীরা ছিঁড়ে ফেলেছে। তার দাবি, এলাকার কিছু ক্ষুদ্র কাঁকড়া হ্যাচারি ব্যবসায়ী এসব বর্জ্য নদীর পাড়ে ফেলে থাকে।
এদিকে স্থানীয়রা দ্রুত মরা কাঁকড়ার স্তূপ অপসারণ এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ মেহেদী হাসান
কার্যালয়ঃ দেশ ভিলা, বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ মিয়া সড়ক, জিটি স্কুল সংলগ্ন, টুঙ্গিপাড়া, গোপালগঞ্জ।
মোবাইলঃ ০১৭১৮-৫৬৫১৫৬, ০১৯৯৫-৩৮৩২৫৫
ইমেইলঃ mehadi.news@gmail.com
Copyright © 2026 Nabadhara. All rights reserved.