মান্দা (নওগাঁ) প্রতিনিধি
নওগাঁর মান্দা উপজেলার একটি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে সরকারি নিয়ম ও টেন্ডার প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে গাছ কাটার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় বিদ্যালয়টির ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ও প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা।
অভিযোগ অনুযায়ী, গত ১২ জুন সাপ্তাহিক ছুটির দিনে উপজেলার গনেশপুর-সতিহাট (জিএস) বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গণের দুটি মেহগনি ও একটি কৃষ্ণচূড়া গাছ কেটে নেওয়া হয়। স্থানীয়দের দাবি, গাছগুলোর মূল্য অর্ধলক্ষাধিক টাকা।
সরেজমিনে এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি দেওয়ান ইকরামুল হক বাচ্চু এবং প্রধান শিক্ষক মনোয়ারা বেগম সম্পর্কে স্বামী-স্ত্রী। স্থানীয়দের অভিযোগ, এর আগেও বিভিন্ন সময় বিদ্যালয়ের গাছ কেটে বিক্রি করা হয়েছে এবং প্রমাণ গোপনের জন্য গাছের গোড়া মাটি দিয়ে ঢেকে রাখা হয়েছে।
বিদ্যালয়ের নৈশপ্রহরী আব্বাস আলী বলেন, “টেন্ডার হয়েছে কি না তা আমি জানি না। তবে গত শুক্রবার প্রতিষ্ঠানের তিনটি গাছ কেটে বিক্রি করেছেন প্রধান শিক্ষক মনোয়ারা বেগম।”
এ বিষয়ে প্রধান শিক্ষক মনোয়ারা বেগমের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি গাছ কাটার জন্য কোনো রেজুলেশন বা টেন্ডার না হওয়ার বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, “প্রতিষ্ঠানের স্বার্থেই গাছ কাটা হয়েছে।” তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত মন্তব্য করতে রাজি হননি।
অন্যদিকে ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি দেওয়ান ইকরামুল হক বাচ্চুর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “গাছ কাটা হয়েছে, তাতে আপনাদের কী সমস্যা? আমাদের প্রয়োজনে গাছ কাটা হয়েছে। আপনারা যা পারেন করেন।”
মান্দা উপজেলা বন কর্মকর্তা আহম্মদ আলী বলেন, “বিদ্যালয়ের গাছ কাটার বিষয়ে বন বিভাগ থেকে কোনো অনুমতি বা টেন্ডার নেওয়া হয়নি। তারা কীভাবে গাছ কেটেছেন, তা তারাই ভালো বলতে পারবেন।”
এ বিষয়ে মান্দা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আখতার জাহান সাথী বলেন, “সরকারি বিধিমালা অনুযায়ী টেন্ডার ছাড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের গাছ কাটার কোনো সুযোগ নেই। যদি নিয়মবহির্ভূতভাবে গাছ কাটা হয়ে থাকে, তাহলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ মেহেদী হাসান
কার্যালয়ঃ দেশ ভিলা, বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ মিয়া সড়ক, জিটি স্কুল সংলগ্ন, টুঙ্গিপাড়া, গোপালগঞ্জ।
মোবাইলঃ ০১৭১৮-৫৬৫১৫৬, ০১৯৯৫-৩৮৩২৫৫
ইমেইলঃ mehadi.news@gmail.com
Copyright © 2026 Nabadhara. All rights reserved.