যশোর প্রতিনিধি
আমপারা শেষ করে মাত্র পবিত্র কুরআন শরিফ ধরেছিল ১২ বছরের শিশু জুবায়ের হোসেন। স্বপ্ন ছিল হাফেজ ও আলেম হয়ে দরিদ্র বাবা-মায়ের মুখ উজ্জ্বল করবে। কিন্তু এক নিমিষেই সেই রঙিন স্বপ্ন আজ ঘোর বিষাদে রূপ নিয়েছে। এক ভয়ঙ্কর মরণব্যাধি কেড়ে নিতে বসেছে ফুটফুটে এই শিশুটির প্রাণ। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, জুবায়ের এক জটিল ও প্রাণঘাতী রোগ ‘অ্যাপ্লাস্টিক অ্যানিমিয়া’ (Aplastic Anaemia) তে আক্রান্ত। সহজ ভাষায়, তার শরীরে এখন আর কোনো নতুন রক্তকণিকা তৈরি হচ্ছে না।
যশোর শহরের ঝুমঝুমপুর এলাকার বিজিবি ক্যাম্পের পাশে চরম অভাবের সংসারে জুবায়েরের জন্ম। বাবা মোঃ মোজাম্মেল হোসেন একজন সাধারণ অটো ভ্যানচালক এবং মা মোছাঃ মনিরা খাতুন মানুষের বাসায় গৃহপরিচারিকার কাজ করেন। এক ছেলে ও এক মেয়ের মধ্যে জুবায়ের সবার বড়। ঝুমঝুমপুর মোহাম্মাদিয়া হাফিজিয়া মাদ্রাসার এই মেধাবী ছাত্রটি বর্তমানে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের হেমাটোলজি বিভাগে প্রফেসর ডা. মোঃ আব্দুল আজিজের তত্ত্বাবধানে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
বিগত তিন মাস আগে জুবায়েরের এই মরণব্যাধি ধরা পড়ে। এরপর থেকে যশোর, খুলনা, রাজশাহী হয়ে ঢাকা মেডিক্যালের বারান্দায় দৌড়াতে দৌড়াতে নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন এই অসহায় পিতা-মাতা। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, এভারকেয়ার হাসপাতাল ও জেনটেক ল্যাবের বোনম্যারো টেস্ট এবং ইমিউনোফেনোটাইপিং রিপোর্টে জুবায়েরের ‘অ্যাপ্লাস্টিক অ্যানিমিয়া’র কথা শতভাগ নিশ্চিত হয়েছে।
জুবায়েরের বর্তমান শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক। রক্ত কমে গেলেই তার শরীরে ১০৪-১০৫ ডিগ্রি তীব্র জ্বর আসে। সারা শরীরে কয়লার মতো কালো কালো গুটা ও দাগ দেখা দেয়। নাক, মুখ, দাঁতের মাড়ি এমনকি মলমূত্রের সাথে অনবরত তাজা রক্ত বের হয়। রক্তশূন্যতা আর তীব্র ব্যথায় সারারাত ছটফট করে ১২ বছরের এই শিশুটি। রক্ত দেওয়ার পর কিছুদিন সে একটু স্বাভাবিক থাকে, কিন্তু রক্ত কমে গেলেই আবার শুরু হয় মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়া।
চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, জুবায়েরকে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনার একমাত্র বৈজ্ঞানিক উপায় হলো বোনম্যারো ট্রান্সপ্লান্ট (Allo SCT)। আর এর জন্য খরচ হবে প্রায় ৪০ থেকে ৫০ লক্ষ টাকা। বর্তমানে জুবায়েরের পেছনে প্রতি মাসে শুধু দামি ওষুধেই খরচ হচ্ছে ৪২ থেকে ৪৫ হাজার টাকা। এ ছাড়া মাসে ৮ থেকে ১০ বার ব্লাড ও প্লাটিলেট ট্রান্সফিউশন করতে হয়, যার খরচ প্রায় ৫৬ হাজার টাকা। সব মিলিয়ে প্রতি মাসে ১ লক্ষ টাকার বেশি খরচ হচ্ছে। ভ্যান চালিয়ে দিনে মাত্র ৫০০-৭০০ টাকা আয় করা বাবা মোজাম্মেল হোসেনের পক্ষে এই বিপুল অঙ্কের টাকা জোগাড় করা কোনোভাবেই সম্ভব নয়।
জুবায়েরের বাবা অশ্রুসিক্ত চোখে বলেন, আমার মাত্র আড়াই শতক ভিটেমাটি ছিল, তা ১ লাখ ২০ হাজার টাকায় বিক্রি করে ছেলের পেছনে খরচ করেছি। ভ্যানগাড়ির মালিক, সহকর্মী, গ্রামবাসী ও ঝুমঝুমপুরী সমাজকল্যাণ সংস্থার সহযোগিতায় এ পর্যন্ত প্রায় ৬ লাখ টাকা খরচ হয়েছে। এখন আমার আর কোনো সম্বল নেই। গত তিন মাস ধরে হাসপাতালে দৌড়াদৌড়ি করায় ভ্যান চালানোও বন্ধ। চিকিৎসকরা বলছেন বোনম্যারো ট্রান্সফার করলে আমার ছেলেটা বেঁচে যাবে। কিন্তু এত টাকা আমি কোথায় পাবো?
চোখের পানি মুছতে মুছতে মা মনিরা খাতুন বলেন, ছেলের নাক-মুখ দিয়ে যখন অনবরত রক্ত বের হয়, মা হয়ে আমি আর সহ্য করতে পারি না। আমাদের চোখের পানি শুকিয়ে গেছে। আপনাদের কাছে আমার ছেলের জীবন ভিক্ষা চাচ্ছি। আপনারা একটু দয়া করুন, আমার ছেলেটাকে বাঁচান।
একটি ফুটফুটে শিশুর সুন্দর ভবিষ্যৎ ও জীবন বাঁচাতে সমাজের বিত্তবান, প্রবাসী এবং হৃদয়বান মানুষদের প্রতি আকুল আবেদন জানিয়েছে তার পরিবার। আপনাদের সামান্য অনুদান ফিরিয়ে দিতে পারে জুবায়েরের জীবন।
বিকাশ নম্বর: ০১৭৯৭১২২৬৯৭ (ব্যক্তিগত) নগদ নম্বর: ০১৭৬২৩৪১৬৬৪ (ব্যক্তিগত) ব্যাংক অ্যাকাউন্ট: হিসাব নম্বর: ০২০০০১৯৭০৭৩১০ ব্যাংক: অগ্রণী ব্যাংক, ঝুমঝুমপুর শাখা, যশোর।
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ মেহেদী হাসান
কার্যালয়ঃ দেশ ভিলা, বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ মিয়া সড়ক, জিটি স্কুল সংলগ্ন, টুঙ্গিপাড়া, গোপালগঞ্জ।
মোবাইলঃ ০১৭১৮-৫৬৫১৫৬, ০১৯৯৫-৩৮৩২৫৫
ইমেইলঃ mehadi.news@gmail.com
Copyright © 2026 Nabadhara. All rights reserved.