রাসেল আহমেদ,খুলনা প্রতিনিধি
খুলনার তেরখাদা উপজেলার সদর ইউনিয়নের বলর্ধনা মোড় থেকে শালিকদিয়া হয়ে আটলিয়া পর্যন্ত প্রায় সাড়ে তিন কিলোমিটার ইটের সলিং (এইচবিবি) সড়ক দীর্ঘ ২২ বছরের অবহেলায় এখন চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। সড়কজুড়ে বড় বড় গর্ত ও ভাঙাচোরা অবস্থার কারণে এটিকে স্থানীয়রা ‘মৃত্যু-ফাঁদ’ হিসেবে আখ্যায়িত করছেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘ দুই দশকের বেশি সময় ধরে সড়কটিতে কোনো বড় ধরনের সংস্কার হয়নি। ফলে শিক্ষা, চিকিৎসা ও কৃষিনির্ভর এই অঞ্চলের হাজারো মানুষ প্রতিদিন চরম দুর্ভোগে পড়ছেন। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে সড়কটি কাদায় পরিণত হয়ে যান চলাচল আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে।
সরেজমিনে দেখা যায়, সড়কের বিভিন্ন অংশে ইট উঠে গিয়ে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। এতে ভ্যান, ইজিবাইক ও পণ্যবাহী যানবাহন চলাচল করতে গিয়ে প্রায়ই দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে।
ভ্যানচালক মাসুদ শিকদার ও মফিজুল শেখ বলেন, “এই রাস্তায় গাড়ি চালানো খুব কষ্টকর। বড় বড় গর্ত থাকায় যাত্রী নিয়ে চলাচল করতে ভয় লাগে। প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটে।”
স্থানীয় বাসিন্দা জাহিদ শিকদার বলেন, “দুই দশকের বেশি সময় ধরে একই অবস্থা। উন্নয়নের কথা শোনা গেলেও বাস্তবে কোনো পরিবর্তন হয়নি।”
শিক্ষার্থীরাও ভোগান্তিতে পড়েছেন বলে জানান কলেজ শিক্ষার্থী রাকিব শিকদার ও সাকিব হাসান। তাদের ভাষায়, বৃষ্টি হলে রাস্তা কাদায় পরিণত হয়, ফলে সময়মতো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়ে।
কৃষকরাও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। স্থানীয় কৃষক আলিম শিকদার ও জাকির সিকদার বলেন, উৎপাদিত কৃষিপণ্য বাজারে নিতে অতিরিক্ত ভাড়া গুনতে হচ্ছে এবং অনেক যানবাহন এ রাস্তায় চলতে অনীহা প্রকাশ করছে।
এদিকে স্থানীয় শিক্ষার্থী তানভীর ইসলাম হামিম সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সড়কটির দুরবস্থার চিত্র তুলে ধরে দ্রুত সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন।
সদর ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য মো. আনিছুর রহমান বলেন, “দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় এলাকাবাসী চরম ভোগান্তিতে রয়েছে। দ্রুত সড়কটি উন্নয়ন করা প্রয়োজন।”
এ বিষয়ে তেরখাদা উপজেলা প্রকৌশলী ভাস্কর মৃধা জানান, নতুন বাজেট পাস হলে সড়কটি ইটের সলিং থেকে কার্পেটিংয়ে উন্নীত করার কাজ শুরু করা হবে।
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ মেহেদী হাসান
কার্যালয়ঃ দেশ ভিলা, বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ মিয়া সড়ক, জিটি স্কুল সংলগ্ন, টুঙ্গিপাড়া, গোপালগঞ্জ।
মোবাইলঃ ০১৭১৮-৫৬৫১৫৬, ০১৯৯৫-৩৮৩২৫৫
ইমেইলঃ mehadi.news@gmail.com
Copyright © 2026 Nabadhara. All rights reserved.