রাসেল আহমেদ, খুলনা প্রতিনিধি
প্রাণনাশের আশঙ্কায় থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছিলেন শ্রমিক নেতা মাসুম বিল্লাহ। কিন্তু সেই আশঙ্কা সত্যি হতে সময় লাগেনি। জিডি করার মাত্র দুই মাসের মাথায় খুলনা নগরীর ব্যস্ততম এলাকায় প্রকাশ্যে গুলি ও কুপিয়ে হত্যা করা হয় রূপসা মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি এবং উপজেলা শ্রমিক দলের সাবেক আহ্বায়ক মাসুম বিল্লাহকে।
চাঞ্চল্যকর এ হত্যাকাণ্ডের তিন মাসেরও বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও এখনো পুরোপুরি উন্মোচিত হয়নি এর রহস্য। তদন্তে কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হলেও হত্যার নির্দেশদাতা, অর্থদাতা এবং পলাতক গুরুত্বপূর্ণ আসামিদের বিষয়ে এখনো স্পষ্ট কোনো তথ্য প্রকাশ করতে পারেনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এতে হতাশা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন নিহতের পরিবারের সদস্যরা।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে একাধিকবার মোবাইল ফোনে প্রাণনাশের হুমকি পান মাসুম বিল্লাহ। সর্বশেষ ১২ জানুয়ারি রাতে হত্যার হুমকি পেয়ে তিনি রূপসা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। কিন্তু সেই জিডিও শেষ পর্যন্ত তার জীবন রক্ষা করতে পারেনি।
নিহতের বড় ছেলে আবিদ হোসাইন বলেন,"বাবা হত্যার তিন মাসের বেশি সময় পার হয়ে গেছে। কিন্তু মামলার প্রকৃত অগ্রগতি সম্পর্কে আমরা কিছুই জানি না। হত্যার পেছনে কারা ছিল, কারা অর্থ দিয়েছে কিংবা কার নির্দেশে এ ঘটনা ঘটেছে—এসব প্রশ্নের উত্তর এখনো পাইনি।"
তিনি আরও বলেন,"বাবা নিহত হওয়ার পর আমরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। পরিবারের খোঁজখবর নেওয়ার মতো কেউ নেই। দ্রুত হত্যার নেপথ্যের ব্যক্তিদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানাই।"
তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গত ৪ মার্চ সন্ধ্যার পর থেকেই খুলনা নগরীর ডাকবাংলা মোড় এলাকায় অবস্থান নেয় একদল সশস্ত্র দুর্বৃত্ত। পরিকল্পনা অনুযায়ী মাসুম বিল্লাহকে লক্ষ্যবস্তু হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। রাত সাড়ে ৮টার দিকে তাকে ধাওয়া করা হলে আত্মরক্ষার জন্য তিনি একটি জুতার শোরুমে আশ্রয় নেওয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু হামলাকারীরা সেখানেও তাকে ঘিরে ফেলে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, হামলাকারীরা প্রথমে ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে জখম করে। পরে কাছ থেকে গুলি করলে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। হামলার পর জনতা একজন অস্ত্রধারীকে আটক করতে সক্ষম হলেও অন্যরা পালিয়ে যায়।
গুরুতর আহত অবস্থায় মাসুম বিল্লাহকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
তদন্তসংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রের দাবি, এটি ছিল একটি পূর্বপরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। হত্যার আগে হামলাকারীরা নিজেদের মধ্যে একাধিকবার যোগাযোগ করে এবং নির্দিষ্ট পরিকল্পনা অনুযায়ী ঘটনাটি বাস্তবায়ন করে। তবে হত্যার অর্থদাতা ও মূল পরিকল্পনাকারীদের বিষয়ে এখনো নিশ্চিত হতে পারেননি তদন্তকারীরা।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই জামাল বলেন,"দুই গুরুত্বপূর্ণ পলাতক আসামিকে গ্রেপ্তারের জন্য বিভিন্ন এলাকায় অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তাদের আটক করা গেলে হত্যাকাণ্ডের পেছনের অনেক তথ্য বেরিয়ে আসবে। আমরা আশাবাদী, খুব দ্রুত মামলার গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হবে।"
তবে নিহতের পরিবারের প্রশ্ন, প্রকাশ্যে সংঘটিত এমন একটি আলোচিত হত্যাকাণ্ডের পরও কেন তিন মাসেও পুরো রহস্য উন্মোচিত হলো না। তাদের দাবি, শুধু সরাসরি হত্যাকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের নয়, এর নেপথ্যের নির্দেশদাতা ও অর্থদাতাদেরও আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ মেহেদী হাসান
কার্যালয়ঃ দেশ ভিলা, বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ মিয়া সড়ক, জিটি স্কুল সংলগ্ন, টুঙ্গিপাড়া, গোপালগঞ্জ।
মোবাইলঃ ০১৭১৮-৫৬৫১৫৬, ০১৯৯৫-৩৮৩২৫৫
ইমেইলঃ mehadi.news@gmail.com
Copyright © 2026 Nabadhara. All rights reserved.