জুলফিকার বাবলু, মাদারগঞ্জ (জামালপুর) প্রতিনিধি
জামালপুরের মাদারগঞ্জে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ব্র্যাকের এক মাঠকর্মীর বিরুদ্ধে ক্ষুদ্রঋণ কর্মসূচির গ্রাহকদের কাছ থেকে লাখো টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের পর থেকে ওই মাঠকর্মীর সঙ্গে কোনো ধরনের যোগাযোগ করা যাচ্ছে না। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী গ্রাহকদের মধ্যে চরম ক্ষোভ ও উদ্বেগ বিরাজ করছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, আশা আক্তার নামে ওই কর্মী ২০২৪ সালের আগস্ট মাসে ব্র্যাকের মাইক্রোফাইন্যান্স কর্মসূচির সিডিও (CDO) হিসেবে যোগ দেন। তিনি উপজেলার গাবেরগ্রাম, তারতাপাড়া ও জোড়খালি এলাকার ক্ষুদ্রঋণ কার্যক্রমের দায়িত্বে ছিলেন। দায়িত্ব পালনকালে তিনি গ্রাহকদের ঋণ বিতরণ ও কিস্তি আদায়ের কাজ করতেন।
ভুক্তভোগী গ্রাহকদের দাবি, গত প্রায় দুই মাসে তিনি শতাধিক গ্রাহককে ঋণ পাইয়ে দেওয়ার পর প্রত্যেকের কাছ থেকে ঋণের প্রায় অর্ধেক টাকা ব্যক্তিগতভাবে ধার নেন। অভিযোগ রয়েছে, এক লাখ টাকা ঋণ পাওয়া কোনো সদস্যের কাছ থেকে ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত ব্যক্তিগতভাবে নিয়ে উচ্চ মুনাফার আশ্বাস দেন। এছাড়া একজন সদস্যের মাধ্যমে অন্য সদস্যদের কাছ থেকেও অর্থ সংগ্রহ করেন।
গ্রাহকদের ভাষ্য, গত ২৪ জুন ২০২৬ থেকে আশা আক্তারের মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে এবং এরপর থেকে তার সঙ্গে কোনো ধরনের যোগাযোগ সম্ভব হয়নি। বিষয়টি জানাজানি হলে ভুক্তভোগীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
ব্র্যাকের মাদারগঞ্জ শাখার ব্যবস্থাপক মাজারুল আলম বলেন, "২৪ জুন থেকে আশা আক্তারের সঙ্গে কোনো ধরনের যোগাযোগ করা যাচ্ছে না। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। ঘটনাটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।"
এদিকে মেয়ের সন্ধান করতে আশা আক্তারের মা মাদারগঞ্জ মডেল থানায় গেলে খবর পেয়ে সেখানে ব্র্যাকের কর্মকর্তারা ও ভুক্তভোগী গ্রাহকেরা উপস্থিত হন। এ সময় থানা প্রাঙ্গণে কিছু সময়ের জন্য উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
তবে এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত থানায় কোনো মামলা দায়ের হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ মেহেদী হাসান
কার্যালয়ঃ দেশ ভিলা, বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ মিয়া সড়ক, জিটি স্কুল সংলগ্ন, টুঙ্গিপাড়া, গোপালগঞ্জ।
মোবাইলঃ ০১৭১৮-৫৬৫১৫৬, ০১৯৯৫-৩৮৩২৫৫
ইমেইলঃ mehadi.news@gmail.com
Copyright © 2026 Nabadhara. All rights reserved.