রুয়েট প্রতিনিধি
রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (রুয়েট) তিন শিক্ষার্থী পদ্মা নদীর তীরে গোসল করতে গিয়ে স্থানীয় কয়েকজনের হামলার শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় আহত শিক্ষার্থীরা চিকিৎসা গ্রহণের পাশাপাশি রাজশাহীর বোয়ালিয়া মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, শনিবার (২৭ জুন) দুপুরে রুয়েটের যন্ত্রকৌশল বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মীর সজিব, আশিকুর রহমান ও আজমাইন তালাইমারী এলাকায় পদ্মা নদীতে গোসল করতে যান। গোসল শেষে নদীর তীরে এক কিশোরকে মাছ ধরার জাল টানতে দেখে তাকে সহায়তা করতে এগিয়ে যান তারা। এ সময় কয়েকজন ব্যক্তি তাদের কাপড় রাখা ব্যাগ তল্লাশি করতে শুরু করেন। বিষয়টি জানতে চাইলে কোনো ধরনের বাকবিতণ্ডা ছাড়াই মীর সজিবকে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগীরা।
পরে সজিবকে উদ্ধার করতে গেলে আশিকুর রহমান ও আজমাইনকেও মারধর করা হয়। একপর্যায়ে আরও ৮ থেকে ১০ জন ঘটনাস্থলে এসে হামলায় অংশ নেয়। এতে তিনজনই আহত হন। সজিব ও আশিকুর ঘটনাস্থল থেকে বের হতে পারলেও আজমাইন কিছু সময় সেখানে আটকে ছিলেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
ঘটনার পর বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে জানানো হলে ছাত্রকল্যাণ দপ্তরের পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. রবিউল ইসলাম সরকারের উদ্যোগে পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে।
আহত শিক্ষার্থীরা রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে চিকিৎসা নিয়ে বোয়ালিয়া থানায় লিখিত অভিযোগ করেন। অভিযোগে ‘লাম’ ও ‘জিম’ নামে দুই ব্যক্তিসহ অজ্ঞাত আরও ১২ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ ঘটনাস্থল ও অভিযুক্তদের একজনের বাড়িতে অভিযান চালালেও তাকে পাওয়া যায়নি। পুলিশ জানিয়েছে, বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
চিকিৎসকদের বরাত দিয়ে জানা গেছে, আশিকুর রহমানের এক কানে শ্রবণ সমস্যা দেখা দিয়েছে। মীর সজিবের চোখের নিচে আঘাত রয়েছে এবং আজমাইনের হাতে ভাঙনের আশঙ্কা রয়েছে। এছাড়া তিনজনের শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।
বোয়ালিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাসুমা মুস্তারী বলেন, “অভিযোগ পাওয়ার পরপরই ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
এ ঘটনায় রুয়েট শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। তারা হামলার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার এবং বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ দাবি জানিয়েছেন।
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ মেহেদী হাসান
কার্যালয়ঃ দেশ ভিলা, বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ মিয়া সড়ক, জিটি স্কুল সংলগ্ন, টুঙ্গিপাড়া, গোপালগঞ্জ।
মোবাইলঃ ০১৭১৮-৫৬৫১৫৬, ০১৯৯৫-৩৮৩২৫৫
ইমেইলঃ mehadi.news@gmail.com
Copyright © 2026 Nabadhara. All rights reserved.