ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার কালিকচ্ছ বাজারে হাদিম মিয়া হত্যাকে কেন্দ্র করে ধরন্তি ও সূর্যকান্দি গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে টানা তিন দিন ধরে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে একজন নিহত এবং অন্তত ৬০ জন আহত হয়েছেন।
মঙ্গলবার (৩০ জুন) সকালে দুই পক্ষের লোকজন দেশীয় অস্ত্র, লাঠিসোঁটা ও ইটপাটকেল নিয়ে কালিকচ্ছ বাজার এলাকায় অবস্থান নিয়ে দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ায় জড়িয়ে পড়ে। এ সময় উভয় পক্ষের অন্তত ২০ জন আহত হন। সংঘর্ষের কারণে সরাইল-নাসিরনগর আঞ্চলিক সড়কে যান চলাচলও সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যায়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ধরন্তি বিলের জলমহালের ইজারা নেন সূর্যকান্দি গ্রামের মোশাররফ ও ধরন্তির চাকসার গ্রামের হাদিম মিয়াসহ কয়েকজন। ইজারার টাকা-পয়সা নিয়ে বিরোধের জেরে গত রোববার (২৮ জুন) সন্ধ্যায় কালিকচ্ছ বাজারে মোশাররফ ও হাদিম মিয়ার মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়।
ওই সংঘর্ষে হাদিম মিয়া (৫০) নিহত হন এবং প্রায় ৩০ জন আহত হন। নিহত হাদিম মিয়া ধরন্তির চাকসার গ্রামের শামসু মিয়ার ছেলে।
এর জের ধরে সোমবার (২৯ জুন) হাদিম মিয়ার দাফনের পর ধরন্তি গ্রামের লোকজন কালিকচ্ছ বাজারে গিয়ে সূর্যকান্দি গ্রামের লোকজনের ওপর হামলা ও কয়েকটি দোকানে ভাঙচুর-লুটপাট চালিয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। প্রায় দুই ঘণ্টা সংঘর্ষের পর পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
এরই ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার সকালে আবারও দুই পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। পরে দুপুর দেড়টার দিকে স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীদের সহযোগিতায় জেলা রিজার্ভ পুলিশ ও সরাইল থানা পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
তিন দিনের সংঘর্ষে একজন নিহত এবং অন্তত ৬০ জন আহত হয়েছেন বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে।
সরাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মঞ্জুর কাদের ভূঁইয়া বলেন, “দুপুরের দিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। এ ঘটনায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে।”
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ মেহেদী হাসান
কার্যালয়ঃ দেশ ভিলা, বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ মিয়া সড়ক, জিটি স্কুল সংলগ্ন, টুঙ্গিপাড়া, গোপালগঞ্জ।
মোবাইলঃ ০১৭১৮-৫৬৫১৫৬, ০১৯৯৫-৩৮৩২৫৫
ইমেইলঃ mehadi.news@gmail.com
Copyright © 2026 Nabadhara. All rights reserved.