মান্দা (নওগাঁ) প্রতিনিধি
নওগাঁর মান্দা উপজেলায় বেসরকারি সংস্থা ভিলেজ এডুকেশন রিসোর্স সেন্টার (ভার্ক) বাস্তবায়নাধীন চারটি খাল পুনঃখনন প্রকল্পে ব্যাপক অনিয়ম ও ‘পুকুর চুরি’র অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, খালের পাড় নির্মাণ না করেই খননকৃত মাটি স্থানীয়দের কাছে টাকার বিনিময়ে বিক্রি করা হয়েছে। এতে খালপাড়ের বিভিন্ন স্থানে ভাঙন দেখা দেওয়ায় প্রকল্পের স্থায়িত্ব নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, উপজেলার তেঁতুলিয়া ইউনিয়নের চকসাবাই, চকের বিল ও ঘোনা এবং ভারশোঁ ইউনিয়নের বিল উথরাইল (পৈতা) খাল পুনঃখননের জন্য দুটি প্যাকেজের আওতায় প্রায় ১ কোটি ৮০ লাখ টাকা ব্যয়ে প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। গ্রীন ক্লাইমেট ফান্ড (জিসিএফ)-এর অর্থায়ন এবং পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ)-এর সহায়তায় জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলা ও খালের নাব্যতা ফিরিয়ে আনতে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে ভার্ক।
গত ২৮ এপ্রিল প্রকল্পের উদ্বোধন করা হলেও ৩০ জুন মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও কোনো খালের কাজ পুরোপুরি শেষ হয়নি। বর্ষার বৃষ্টিতে খালগুলোতে পানি জমে যাওয়ায় খননকাজও বন্ধ রয়েছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, চকসাবাই খালের এক কিলোমিটার খননের চুক্তি থাকলেও প্রায় ৫০০ মিটার খনন করা হয়েছে। খালের দুই পাশ থেকে মাটি তুলে রাখা হলেও পাড় নির্মাণ করা হয়নি। অভিযোগ রয়েছে, সেই মাটি স্থানীয়দের কাছে বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে। ফলে সামান্য বৃষ্টিতেই বিভিন্ন স্থানে পাড় ভেঙে পড়েছে এবং স্থানীয়দের চলাচলে দুর্ভোগ সৃষ্টি হয়েছে। এছাড়া ঘোনা বিলের খালটি দায়সারাভাবে শেষ করা হয়েছে এবং চকের বিল ও বিল উথরাইল (পৈতা) খালের ক্ষেত্রেও অল্প খনন করেই কাজ সম্পন্ন দেখানো হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
চকসাবাই গ্রামের বাসিন্দা মো. সেলিম বলেন, “নামমাত্র খনন করে বেকু মেশিন সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। খালের পাড়ের মাটি বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে। রাস্তা না থাকায় চলাচলে চরম সমস্যা হচ্ছে। বর্ষায় ভোগান্তি আরও বাড়বে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক নারী বলেন, “অফিসের লোকজন স্থানীয়দের কাছে মাটি বিক্রি করেছেন। আমিও ৮ হাজার টাকার মাটি কিনে বাড়ির চারপাশ ভরাট করেছি।”
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে ভার্কের মান্দা উপজেলা প্রকল্প সমন্বয়ক আবু রায়হান বলেন, “চকসাবাই ও ঘোনা খালের কাজ শেষ হয়েছে। বৃষ্টি ও সময় স্বল্পতার কারণে বাকি দুটি খালের কাজ সাময়িকভাবে বন্ধ রয়েছে। খালের মাটি বিক্রি বা অনিয়মের অভিযোগ সঠিক নয়।”
ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিল প্রসঙ্গে তিনি জানান, সম্পন্ন কাজের ভিত্তিতে বিল পরিশোধের প্রক্রিয়া চলছে।
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ মেহেদী হাসান
কার্যালয়ঃ দেশ ভিলা, বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ মিয়া সড়ক, জিটি স্কুল সংলগ্ন, টুঙ্গিপাড়া, গোপালগঞ্জ।
মোবাইলঃ ০১৭১৮-৫৬৫১৫৬, ০১৯৯৫-৩৮৩২৫৫
ইমেইলঃ mehadi.news@gmail.com
Copyright © 2026 Nabadhara. All rights reserved.