রাসেল আহমেদ,খুলনা প্রতিনিধি
খুলনা সিটি করপোরেশনে বিভিন্ন স্থায়ী ও অস্থায়ী পদে চাকরি পাইয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে একাধিক চাকরিপ্রত্যাশীর কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে প্রশাসনিক শাখার প্রধান সহকারী মো. নাঈমুজ্জামানের বিরুদ্ধে।
অভিযোগ অনুযায়ী, ৭০ হাজার থেকে ১৮ লাখ টাকা পর্যন্ত নিয়ে অন্তত ১০ থেকে ১২ জনের কাছ থেকে কোটি টাকারও বেশি হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে। চাকরি না হওয়ায় এবং অর্থ ফেরত না পেয়ে ভুক্তভোগীদের কেউ আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন, কেউ আবার করপোরেশন কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছেন। অভিযোগের অন্যতম ভুক্তভোগী অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী ভারতী মণ্ডল।
তিনি দাবি করেছেন, তার ছেলে জয়ন্ত মণ্ডলকে কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ার পদে স্থায়ী চাকরি দেওয়ার আশ্বাস দেন মো. নাঈমুজ্জামান। সেই আশ্বাসে বিশ্বাস করে পেনশনের সঞ্চিত ১৮ লাখ টাকা তার হাতে তুলে দেন তিনি। কিন্তু দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও চাকরি হয়নি, ফেরত মেলেনি টাকাও। শেষ পর্যন্ত অর্থ উদ্ধারে আদালতে মামলা দায়েরের পাশাপাশি সিটি করপোরেশনেও লিখিত অভিযোগ করেন তিনি।
সিটি করপোরেশন সূত্র জানায়, ২০২১ সালের ২৬ অক্টোবর ২৫টি শূন্য পদে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। পরে ২০২৪ সালের ২৪ নভেম্বর অভ্যন্তরীণ পদোন্নতির মাধ্যমে ১৭টি পদ পূরণের জন্য আবেদন আহ্বান করা হয়। এছাড়া বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কার্যক্রমে বিভিন্ন সময়ে অস্থায়ী জনবলও নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এসব নিয়োগ কার্যক্রমকে কেন্দ্র করেই চাকরিপ্রত্যাশীদের কাছে প্রভাব খাটিয়ে চাকরির নিশ্চয়তা দেওয়ার নামে অর্থ আদায়ের অভিযোগ ওঠে। ভুক্তভোগীদের ভাষ্য, নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পর থেকেই নাঈমুজ্জামান চাকরি নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে মোটা অঙ্কের অর্থ সংগ্রহ করতে থাকেন। কিন্তু অধিকাংশ ক্ষেত্রেই চাকরি না হওয়ায় এখন তারা অর্থ ফেরত পেতে হিমশিম খাচ্ছেন।
চাকরিপ্রত্যাশী শাহাদাৎ হোসেন অভিযোগ করেন, উচ্চমান সহকারী পদে নিয়োগের আশ্বাস পেয়ে তিনি জমি বিক্রি ও ধারদেনা করে মোট ১৭ লাখ টাকা দেন। অর্থ গ্রহণের সময় নাঈমুজ্জামান তাকে দুটি ব্যাংক চেক দেন, যার একটি ৫ লাখ এবং অন্যটি ১২ লাখ টাকার। পরে চাকরি না হওয়ায় তিনি চেক দুটি ব্যাংকে জমা দিলে তা ডিজঅনার হয়। এরপর থেকে টাকা ফেরত পাওয়ার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন।
আরেক ভুক্তভোগী সিরাজুল ইসলাম বলেন, তার ছোট ভাইকে চাকরি দেওয়ার কথা বলে চার লাখ টাকা নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু চাকরি না হওয়ায় বহুবার যোগাযোগ করেও কোনো সমাধান পাননি। একপর্যায়ে বাধ্য হয়ে তিনি করপোরেশনের কাছে লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন।
এদিকে করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার দপ্তরের গোপনীয় সহকারী (সিএ) মিজানুর রহমান জানান, তার এক আত্মীয়কে চাকরি দেওয়ার আশ্বাসে নাঈমুজ্জামান সাড়ে তিন লাখ টাকা নিয়েছিলেন। পরে নানা তাগাদার পর কৌশলে সেই অর্থ ফেরত পাওয়া সম্ভব হয়েছে। অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে মো. নাঈমুজ্জামানের মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি। এদিকে প্রশাসনিক কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালনকারী ভেটেরিনারি কর্মকর্তা ড. পেরু গোপাল বিশ্বাস এ বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি হননি।
তবে সিটি করপোরেশনের সচিব মো. রেজা রশীদ জানিয়েছেন, গত জুন মাসে মো. নাঈমুজ্জামান স্বেচ্ছায় অবসরের আবেদন করেছেন। আবেদনে তিনি প্রভিডেন্ট ফান্ড, গ্র্যাচুইটি ও অন্যান্য আর্থিক সুবিধা চেয়েছেন। এর মধ্যেই তার বিরুদ্ধে প্রাপ্ত লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত সম্পন্ন হয়েছে।
তিনি বলেন, তদন্তে চাকরি দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে অর্থ গ্রহণের অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে। এ কারণে তার বিরুদ্ধে চলতি সপ্তাহেই বিভাগীয় মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া শুরু হচ্ছে। অভিযোগ নিষ্পত্তির অগ্রগতি ও প্রশাসনিক বিধিবিধান বিবেচনা করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ মেহেদী হাসান
কার্যালয়ঃ দেশ ভিলা, বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ মিয়া সড়ক, জিটি স্কুল সংলগ্ন, টুঙ্গিপাড়া, গোপালগঞ্জ।
মোবাইলঃ ০১৭১৮-৫৬৫১৫৬, ০১৯৯৫-৩৮৩২৫৫
ইমেইলঃ mehadi.news@gmail.com
Copyright © 2026 Nabadhara. All rights reserved.