যশোর প্রতিনিধি
যশোর শহরে বেওয়ারিশ কুকুর ও বিড়ালের উপদ্রব দিন দিন বেড়ে চলেছে। রাস্তাঘাট, বাজার থেকে শুরু করে সরকারি হাসপাতাল চত্বরেও দলবদ্ধ কুকুরের বিচরণে পথচারী, শিশু ও বৃদ্ধদের চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। একই সঙ্গে কুকুর-বিড়ালের কামড় ও আঁচড়ে আহত রোগীর সংখ্যা বাড়লেও যশোর জেনারেল হাসপাতালে জলাতঙ্ক প্রতিরোধী (অ্যান্টি-র্যাবিস) ভ্যাকসিনের সংকট দেখা দিয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, শহরের বিভিন্ন স্থানে উন্মুক্ত ডাস্টবিন ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনার দুর্বলতার কারণে বেওয়ারিশ প্রাণীর সংখ্যা দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে।
শহরের বেজপাড়া মেইন রোডের এক ফার্মেসি ব্যবসায়ী জানান, তার দোকানের আশপাশেই সারাদিন ২০ থেকে ৩০টি কুকুর অবস্থান করে। এতে ক্রেতাদের চলাচলেও সমস্যা হচ্ছে।
হুশতলা এলাকার বাসিন্দা আব্দুস সাত্তার বলেন, “কুকুরের উৎপাতে স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা করা কঠিন হয়ে পড়েছে। ডাস্টবিন থেকে ময়লা-আবর্জনা টেনে এনে আশপাশে ছড়িয়ে দেয়। ছোট শিশুদের একা বাইরে পাঠাতে ভয় লাগে।”
যশোর জেনারেল হাসপাতালের ইপিআই টিকা ইনচার্জ মোহাম্মদ নুরুল হক জানান, প্রতিদিন গড়ে ১৫০ থেকে ২৫০ জন রোগী কুকুর বা বিড়ালের কামড় ও আঁচড়ের শিকার হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসছেন। আক্রান্তদের মধ্যে ১২ থেকে ৩৫ বছর বয়সীদের সংখ্যাই বেশি।
হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. হুসাইন শাফায়াত বলেন, গত মাসের ১৯ থেকে ৩১ তারিখ পর্যন্ত মাত্র ১২ দিনে এক হাজার ১৮৪ জনকে অ্যান্টি-র্যাবিস ভ্যাকসিন দেওয়া হয়েছে। সরকারি সরবরাহ না থাকলে রোগীদের বাইরে থেকে ভ্যাকসিন কিনতে হয়। হাসপাতালের হিসাবে প্রতি মাসে প্রায় ছয় হাজার ৫০০ থেকে আট হাজার মানুষের ভ্যাকসিন প্রয়োজন হয়। সে হিসেবে বছরে প্রায় ২৪ হাজার ভায়াল ভ্যাকসিনের চাহিদা রয়েছে।
তিনি কুকুর বা বিড়ালের কামড় বা আঁচড় লাগলে দ্রুত ক্ষতস্থান প্রবাহমান পানি ও সাবান দিয়ে ভালোভাবে ধুয়ে যত দ্রুত সম্ভব হাসপাতালে যাওয়ার পরামর্শ দেন।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, আক্রান্তদের অর্ধেকেরও বেশি গৃহপালিত কুকুর বা বিড়ালের কামড় কিংবা আঁচড়ের শিকার।
বেজপাড়ার বাসিন্দা আরাফাত রহমান জানান, নিজের পোষা বিড়ালের কামড়ে তিনি আহত হন। তিনি অভিযোগ করেন, অনেক সময় হাসপাতালে ভ্যাকসিন পাওয়া যায় না এবং নির্দিষ্ট সময়ের পর এ সেবা বন্ধ থাকে। তিনি পোষা প্রাণীর বিনামূল্যে টিকাদানের উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানান।
জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. সিদ্দিকুর রহমান বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে বিড়ালের আঁচড়ে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়েছে। তিনি পোষা প্রাণীর নিয়মিত টিকাদান ও প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণের পরামর্শ দেন। প্রাণিসম্পদ দপ্তর থেকে পোষা প্রাণীর বিভিন্ন রোগ প্রতিরোধে ভ্যাকসিন দেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
যশোর পৌরসভার নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন বলেন, আইনি কারণে বেওয়ারিশ কুকুর নিধন সম্ভব নয়। গত ডিসেম্বরে প্রায় দুই হাজার কুকুরকে জলাতঙ্ক প্রতিরোধী টিকা দেওয়া হয়েছিল। তবে টিকার কার্যকারিতা সীমিত সময়ের হওয়ায় নিয়মিত কার্যক্রম প্রয়োজন। প্রাণিসম্পদ দপ্তরের সহযোগিতা পেলে কুকুরের বন্ধ্যাকরণ কর্মসূচিও বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে।
তিনি আরও জানান, উন্মুক্ত ডাস্টবিনের পরিবর্তে ইতোমধ্যে কয়েকটি স্থানে পরিবেশবান্ধব ডাস্টবিন স্থাপন করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে শহরের অন্যান্য ওয়ার্ডেও এ ব্যবস্থা চালু করা হবে।
যশোর পৌর নাগরিক কমিটির সদস্য সচিব জিল্লুর রহমান ভিটু বলেন, বেওয়ারিশ কুকুর নিধনের পরিবর্তে বন্ধ্যাকরণ, টিকাদান এবং আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে হবে। এতে কুকুরের সংখ্যা নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি জনস্বাস্থ্য ঝুঁকিও কমবে।
এদিকে জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. সিদ্দিকুর রহমান বেওয়ারিশ কুকুরের সংখ্যা নিয়ন্ত্রণে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
নাগরিকদের দাবি, হাসপাতালে সার্বক্ষণিক অ্যান্টি-র্যাবিস ভ্যাকসিনের প্রাপ্যতা নিশ্চিত করা, উন্মুক্ত ডাস্টবিন অপসারণ এবং বেওয়ারিশ কুকুরের বন্ধ্যাকরণ কর্মসূচি দ্রুত বাস্তবায়ন না হলে যশোরে জলাতঙ্কের ঝুঁকি আরও বাড়তে পারে।
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ মেহেদী হাসান
কার্যালয়ঃ দেশ ভিলা, বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ মিয়া সড়ক, জিটি স্কুল সংলগ্ন, টুঙ্গিপাড়া, গোপালগঞ্জ।
মোবাইলঃ ০১৭১৮-৫৬৫১৫৬, ০১৯৯৫-৩৮৩২৫৫
ইমেইলঃ mehadi.news@gmail.com
Copyright © 2026 Nabadhara. All rights reserved.