নিজস্ব প্রতিবেদক, গাজীপুর
গাজীপুর মহানগরে চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে (জানুয়ারি-জুন) ১ হাজার ৮৫৪টি মামলা হয়েছে। এ সময়ে বিভিন্ন অপরাধে ৩ হাজার ২১৭ জনকে গ্রেপ্তার করেছে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ (জিএমপি)। একই সঙ্গে অপরাধ সংঘটনের আগেই সন্দেহজনক গতিবিধি শনাক্ত করতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তিনির্ভর সিসি ক্যামেরার আওতায় পুরো মহানগরকে আনার ঘোষণা দিয়েছে জিএমপি।
মঙ্গলবার (৭ জুলাই) সকালে গাজীপুরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান জিএমপির পুলিশ কমিশনার মো. ইসরাইল হাওলাদার।
তিনি জানান, গত ছয় মাসে মাদক-সংক্রান্ত ৮১২টি মামলায় ৯৮৮ জন মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এছাড়া মাদক সেবনের অভিযোগে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ আইনে আরও ৯০১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
পুলিশ কমিশনার বলেন, এ সময়ে হত্যা ২০টি, ডাকাতি ৭টি, ছিনতাই ২৮টি, সিঁধেল চুরি ১৬টি, নারী ও শিশু নির্যাতনের ১৭৬টি, অস্ত্র আইনের ৬০টি এবং অন্যান্য অপরাধে ৭৩৫টি মামলা হয়েছে।
তিনি জানান, গত ছয় মাসে ১০টি অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র, ২০ রাউন্ড গুলি, চারটি ম্যাগাজিন, বিপুল পরিমাণ দেশীয় অস্ত্র, ৫১ হাজার ৫৬০টি ইয়াবা, ৩৫৭ কেজি ৩৬৫ গ্রাম গাঁজা, ১ কেজি ৯৬৫ গ্রাম হেরোইন, ৫৩০ পিস প্যাথেডিন, ৪৬ লিটার দেশীয় মদ, ১৫১ লিটার বিদেশি মদ এবং ২৭৬ বোতল ফেন্সিডিল উদ্ধার করা হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ও তাদের সহযোগীদের ঝটিকা মিছিল এবং প্রচার-প্রচারণা প্রতিরোধে পুলিশ কঠোর অবস্থানে রয়েছে। এ ধরনের ঘটনায় সদর, বাসন, কোনাবাড়ী, গাছা ও টঙ্গী পশ্চিম থানায় মোট সাতটি মামলা হয়েছে। এসব মামলায় ৯৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং আরও শতাধিক ব্যক্তিকে শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
টঙ্গীর পাগাড় বিসিক এলাকায় ঝুট ব্যবসাকে কেন্দ্র করে শক্তি প্রদর্শনের ঘটনায় ১৮ জনকে গ্রেপ্তারের তথ্যও জানান তিনি।
মাদক, ছিনতাই, অপহরণ, হানি ট্র্যাপ ও কিশোর গ্যাং দমনে বিশেষ অভিযান অব্যাহত রয়েছে উল্লেখ করে পুলিশ কমিশনার বলেন, মহানগরের বিভিন্ন বস্তিতে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। পাশাপাশি শীর্ষ মাদক কারবারিদের সম্পদের অনুসন্ধানও চলছে।
তিনি আরও জানান, অপরাধপ্রবণ এলাকাসহ পর্যায়ক্রমে পুরো গাজীপুর মহানগরকে এআই প্রযুক্তিনির্ভর সিসি ক্যামেরার আওতায় আনা হবে। এ প্রযুক্তির মাধ্যমে সন্দেহজনক গতিবিধি শনাক্ত করে অপরাধ সংঘটনের আগেই সতর্ক সংকেত পাওয়া যাবে। এছাড়া কোনো অপরাধ সংঘটিত হলে সিসি ক্যামেরার ফুটেজ তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসেবে ব্যবহৃত হবে।
পুলিশ কমিশনার মো. ইসরাইল হাওলাদার বলেন, “আমাদের লক্ষ্য গাজীপুর মহানগরকে একটি নিরাপদ ও শান্তির নগরীতে পরিণত করা। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা, অপরাধ দমন এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জিএমপি সর্বোচ্চ পেশাদারিত্বের সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছে।”
সংবাদ সম্মেলনে জিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার, উপ-পুলিশ কমিশনারসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ মেহেদী হাসান
কার্যালয়ঃ দেশ ভিলা, বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ মিয়া সড়ক, জিটি স্কুল সংলগ্ন, টুঙ্গিপাড়া, গোপালগঞ্জ।
মোবাইলঃ ০১৭১৮-৫৬৫১৫৬, ০১৯৯৫-৩৮৩২৫৫
ইমেইলঃ mehadi.news@gmail.com
Copyright © 2026 Nabadhara. All rights reserved.