শাহীন আহমেদ,ভেদরগঞ্জ (শরীয়তপুর) প্রতিনিধি
শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জ উপজেলার ৮৭ নম্বর আব্বাস আলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আলী আসাদের অপসারণ এবং সহকারী শিক্ষক দেলোয়ার হোসেন মোল্লার সাময়িক বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারের দাবিতে মানববন্ধন ও কুশপুত্তলিকা দাহ কর্মসূচি পালন করেছেন শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয় এলাকাবাসী।
সোমবার (৭ জুলাই) সকাল ১১টায় বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারীরা বিভিন্ন স্লোগান দেন এবং প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, প্রধান শিক্ষক আলী আসাদের সঙ্গে সহকারী শিক্ষক দেলোয়ার হোসেন মোল্লার সাবেক স্ত্রীর অনৈতিক সম্পর্কের কারণে দেলোয়ারের পারিবারিক জীবন ভেঙে গেছে। এ ঘটনায় বিদ্যালয়ের শিক্ষার পরিবেশ ও প্রতিষ্ঠানের সুনাম ক্ষুণ্ন হয়েছে বলেও তারা দাবি করেন।
বক্তারা জানান, ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে এ অভিযোগ ওঠার পর তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগের উপপরিচালক (ডিডি) প্রধান শিক্ষক আলী আসাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা দায়ের করেন। এছাড়া অতীতেও বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগে তিনি সাময়িক বরখাস্ত হয়েছিলেন বলেও দাবি করেন তারা।
তারা আরও বলেন, গত ২ জুলাই পরকীয়ার অভিযোগ ও নৈমিত্তিক ছুটিকে কেন্দ্র করে প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষক দেলোয়ার হোসেনের মধ্যে বাকবিতণ্ডা ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়। পরে প্রধান শিক্ষককে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার অভিযোগে ৫ জুলাই জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সহকারী শিক্ষক দেলোয়ার হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করে।
মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা দাবি করেন, অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলার দ্রুত নিষ্পত্তি করে তাঁকে স্থায়ীভাবে চাকরি থেকে অপসারণ করতে হবে। একই সঙ্গে সহকারী শিক্ষক দেলোয়ার হোসেনের সাময়িক বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারেরও দাবি জানান তারা।
সহকারী শিক্ষক দেলোয়ার হোসেন বলেন, “গত ২০ মাস ধরে প্রধান শিক্ষক আমাকে মানসিকভাবে নির্যাতন করছেন। তাঁর কারণে আমার সংসার ভেঙে গেছে। আমার তিন সন্তান নিয়ে এখন মানবেতর জীবনযাপন করছি। সাময়িক বরখাস্ত হওয়ায় আমি চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে আছি।”
একই বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক ওয়ালিউল্লাহ বলেন, “প্রধান শিক্ষক আলী আসাদের কারণে দেলোয়ার স্যারের সংসার ভেঙেছে। এর আগেও একই ধরনের অভিযোগে তিনি অন্য একটি বিদ্যালয় থেকে বরখাস্ত হয়েছিলেন বলে আমরা জেনেছি।”
তবে প্রধান শিক্ষক আলী আসাদ এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “সহকারী শিক্ষক দেলোয়ার হোসেন ছুটি চাইলে আমি না দেওয়ায় তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে আমাকে মারধর করেন। পরকীয়ার অভিযোগ সম্পূর্ণ মনগড়া ও অসত্য।”
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ মেহেদী হাসান
কার্যালয়ঃ দেশ ভিলা, বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ মিয়া সড়ক, জিটি স্কুল সংলগ্ন, টুঙ্গিপাড়া, গোপালগঞ্জ।
মোবাইলঃ ০১৭১৮-৫৬৫১৫৬, ০১৯৯৫-৩৮৩২৫৫
ইমেইলঃ mehadi.news@gmail.com
Copyright © 2026 Nabadhara. All rights reserved.