দৌলতপুর (কুষ্টিয়া) প্রতিনিধি
কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে নিহত কবির হোসেনের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য কবর থেকে উত্তোলনের কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছে। আদালতের নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও নিহতের পরিবার ও স্থানীয়দের তীব্র আপত্তির মুখে প্রশাসন কার্যক্রম স্থগিত রেখে ফিরে যায়।
আদালতের নির্দেশে জুলাই আন্দোলনে নিহত কবির হোসেনের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য কবর থেকে উত্তোলনের উদ্যোগ নেওয়া হয়। তবে নিহতের স্ত্রী সালমা খাতুন, পরিবারের সদস্য ও স্থানীয় বাসিন্দাদের আপত্তির কারণে প্রশাসন শেষ পর্যন্ত মরদেহ উত্তোলন না করেই ফিরে যায়।
প্রশাসন ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার দুপুরে ঢাকা মহানগর পুলিশের উত্তরা পশ্চিম থানার একটি বিশেষ দল আদালতের নির্দেশ বাস্তবায়নে কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় দৌলতপুর উপজেলার বোয়ালিয়া ইউনিয়নের কিশোরীনগর গ্রামের কবরস্থানে পৌঁছায়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জাকিউল আলম, দৌলতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. এমদাদুল হক টোটন, দৌলতপুর থানা পুলিশ, বোয়ালিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. খোয়াজ আলী, সাবেক চেয়ারম্যান রেজাউল করিমসহ স্থানীয়রা।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের চূড়ান্ত দিনে ঢাকার উত্তরা এলাকায় গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন ব্যবসায়ী কবির হোসেন (৫০)। পরে ময়নাতদন্ত ছাড়াই তাকে নিজ গ্রাম কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার কিশোরীনগর গ্রামের কবরস্থানে দাফন করা হয়। তিনি দীর্ঘদিন পরিবারসহ উত্তরায় বসবাস করতেন। পরিবারের দাবি, সরকার তাকে জুলাই যোদ্ধা হিসেবে গেজেটভুক্ত করেছে।
প্রশাসনের কর্মকর্তারা মরদেহ উত্তোলনের প্রস্তুতি নিলে নিহতের স্ত্রী সালমা খাতুন ও স্বজনরা এতে বাধা দেন। তারা প্রশাসনের কাছে আবেদন জানিয়ে বলেন, দীর্ঘ সময় পর কবর থেকে মরদেহ তুলে নতুন করে পরিবারকে কষ্ট দিতে চান না। পরে ময়নাতদন্ত বাতিলের দাবিতে কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসকের কাছে একটি লিখিত আবেদনও জমা দেন সালমা খাতুন।
দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খালেদুর রহমান জানান, ঢাকার উত্তরা পশ্চিম থানায় দায়ের করা একটি মামলার তদন্তের স্বার্থে আদালতের নির্দেশে মরদেহ উত্তোলন ও ময়নাতদন্তের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। তবে নিহতের পরিবারের আবেগের প্রতি সম্মান জানিয়ে এবং তাদের লিখিত আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আপাতত কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ও আদালতকে অবহিত করা হবে।
এদিকে স্থানীয়ভাবে আলোচিত একটি বিষয়ে বিভিন্ন মতামত রয়েছে। স্থানীয়দের একাংশের দাবি, কাজী আরেফ আহমেদসহ পাঁচ জাসদ নেতা হত্যা মামলার মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি বাখের আলী পরিচয় পরিবর্তন করে কবির হোসেন নামে ঢাকায় বসবাস করছিলেন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের সময় নিহত কবির হোসেনই সেই বাখের আলী—এমন দাবি নিয়ে সে সময় বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছিল।
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ মেহেদী হাসান
কার্যালয়ঃ দেশ ভিলা, বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ মিয়া সড়ক, জিটি স্কুল সংলগ্ন, টুঙ্গিপাড়া, গোপালগঞ্জ।
মোবাইলঃ ০১৭১৮-৫৬৫১৫৬, ০১৯৯৫-৩৮৩২৫৫
ইমেইলঃ mehadi.news@gmail.com
Copyright © 2026 Nabadhara. All rights reserved.